মেইন ম্যেনু

ভ্রমণে যাবার আগে সাবধান

ব্রিটিশ পর্যটকরা ছুটি কাটানোর জন্য যে গন্তব্যস্থলগুলো বেছে নেয় তাদের মধ্যে মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মরক্বো, মিশর বেশ উল্লেখযোগ্য। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার জন্য তাদের কাছে এই শহরগুলো বেশ জনপ্রিয়। তবে এখানে এসে না জেনে অনেকে করে বসে বিভিন্ন রকম অপরাধ। আর তা সে দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায় পড়ে। আর এই সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে শাস্তির সম্মূখীন হতে হয় অনেক ব্রিটিশ নাগরিকদের। আবার অনেকের জানাই থাকে না যে কোন অপরাধের জন্য কেমন শাস্তির বিধান। এ যেন মিল্টনের ‘Paradise Lost’ এর মতো। যেখানে অ্যাডম ও ইভকে নিয়ম লঙ্ঘনের অপরাধে স্বর্গ থেকে বিতারিত করে দেয়া হয়েছিল। শাস্তিস্বরূপ দেয়া হয়েছিল পৃথিবীর জীবন। স্বর্গে নিয়মভঙ্গকারীকে যদি ঈশ্বরই ক্ষমার চোখে না দেখে তাহলে মানুষ দেখবে কিভাবে একটু ভাবুন। নীচে এমন কিছু দেশের শাস্তির বিধাণ উল্লেখ করা হলো যে দেশগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মানুষের মনে স্বর্গের অনুভূতি জাগায়।

প্রতিবছর হাজার হাজার ব্রিটিশ ভ্রমনপিয়াসিরা ঝাঁক বেধে ভিড় করে থাইল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতগুলোতে। সৈকতগুলো বেশ স্বনামধন্য না হলেও সেখানে বসে পূর্ণ চাঁদ এবং এর আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে জড়ো হয় অনেক ব্রিটিশ নাগরিক। থাইল্যান্ডের এই মনোরম দৃশ্যগুলোর জন্য পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে এর বেশ সুনামও রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে অভিবাসী শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে আসেন। কখনো কখনো তাদের হাতেই হয়ে থাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ। গত বছর দুইজন ব্রিটিশ নাগরিককে হত্যার দায়ে মিয়ানমারের দুই জন অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদন্ড দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। মৃত্যুর পর সেই দুই ব্রিটিশ নাগরিকের লাশ থাইল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতের তীরে পরে থাকতে দেখা যায়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের লাশ সনাক্ত করা হয়। এধরণের ঘটনা শুধুমাত্র যে থাইল্যান্ডে হয় তা কিন্তু নয়। ছুটি কাটানোর জন্য যেসব জায়গাগুলো সবার কাছে বেশ পারিচিত সে সব জায়গাই ঘটছে এধরনের অপরাধ।

উত্তর আফ্রিকার মুসলিম প্রধাণ দেশের একটি হলো মরক্বো। বালুকাময় সমুদ্র সৈকত, জাকজমকপূর্ণ বাজার এবং বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য মরক্বো শহরের বেশ সুনাম রয়েছে। আর এখানে আসা বেশিরভাগ পর্যটকরাই হয় বিট্রিশ নাগরিক। কিন্তু দেশটিতে সমকামিতার ওপর রয়েছে নিষ্ঠুর আইন। কারণ দেশটিতে সমকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই দেশের আইন অনুযায়ী যদি কোন ব্যাক্তি সমকামিতায় জড়িত অভিযোগে অভিযুক্ত হয় তাহলে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আছে কঠোর শাস্তির বিধান। ছয় মাসের জেল অন্যথায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হিসেবে দিতে হবে ১২০ দিরহাম থেকে একহাজার দিরহাম পর্যন্ত নগদ অর্থ। ৬৯ বছরের ব্রিটন রে নামে এক ব্রিটিশ ব্যক্তির ফোন থেকে সমকামিতার কিছু ছবি পাওয়া গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে কারাদণ্ড দেয় হয়। কিন্তু সৌভাগ্যবশত বিট্রিশ সরকারের হস্তক্ষেপে তার পরিবার সরকারের কাছে আপিল করলে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।

মরক্বোর মতো মালদ্বীপেও সমকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের কঠোর নজরদারির ফলে দেশটিতে দিনে দিনে কমে আসছে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সংখ্যা। ২০১০ সালে সমকামিতার বিরুদ্ধে আদালতে একটি রিভিউ সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সমগ্র বিক্ষোভ, প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই আদালত রিভিউ সুপারিশ বাতিল করে দেয় এবং সমকামিতার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ছয় বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

সৌন্দর্য্যের ছোট নগরী হিসেবে সিঙ্গাপুর সিটির কথা কারো অজানা না। ব্রিটিশ পর্যটকরা প্রায়ই সাপ্তাহিক ভ্রমনের জন্য এখানে আসে। জমকালো এই শহরটির আইনী ব্যবস্থা যে কতটা কঠোর তা হয়তো অনেকেরই অজানা। দেয়ালে স্প্রে দিয়ে রং করার অপরাধে এক বিট্রিশ নাগরিককে তিনবার বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। শুধু এখানেই শেষ নয়, এরপর তাকে নয় মাসের কারাদণ্ডও দেয়া হয়। অপরদিকে আর একজন ব্রিটিশ নাগরিক রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে আর একটি গাড়ির ক্ষতি করলে তাকেও একইভাবে বেত্রাঘাতের সম্মূখীন হতে হয়।






মন্তব্য চালু নেই