মেইন ম্যেনু

ভয়ঙ্কর ‘হবে না’ কোমেন

মাঝারি শক্তির ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ চট্টগ্রাম বন্দরের ৫৫ কিলোমিটার দূরে এসে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে খুব ধীর গতিতে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরেরর পরিচালক মো. শাহ আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘর্ণিঝড় বিকেলে আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

“উপকূল অতিক্রম করার পর এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।”

শাহ আলম জানান, কোমেন উপকূল পার হওয়ার সময় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেড়ে ঝড়ো হওয়ার সঙ্গে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসায় বুধবার থেকেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কত এবং মংলা ও পায়রা বন্দরে ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে। তবে বর্ষ মৌসুমে এ ঘূর্ণিঝড় খুব বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে না বলেই আবহাওয়া অধিদপ্তর মনে করছে।

অধিদপ্তরেরর পরিচালক বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় খুব বেশি প্রবল হয় না। কোমেনও মাঝারি সাইক্লোনের রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ঝড়ো হওয়া বয়ে যাবে। তবে কেন্দ্রের একশ কিলোমিটারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের ডানপাশে গতি বেশি থাকায় ওই পাশই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

এ কারণে সেন্টমার্টিনের দিকেই ঝড়ের প্রভাব বেশি পড়েছে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।

বুধবার মধ্যরাতে সেন্টমার্টিন-টেকনাফ উপকূল ছুঁয়ে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম ঊপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায় কোমেন। ঝড়ো বাতাসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে ভোরে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে মোহাম্মদ ইসলাম (৫০) এবং দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় নুরুল ইসলাম ফকির (৫৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল আমিন জানান, রাতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাতাস ও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। ভোরের দিকে ঝড়ো হাওয়ায় দ্বীপের অসংখ্য গাছপালা উপড়ে যায়; আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় শতাধিক বসতঘর।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম জানান, ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

আমাদের ভোলা প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে গুমট আবহাওয়া চলার পর দুপুর ১২টা থেকে মনপুরা, চরফ্যাশন, তজুমু্দ্দিসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে।

কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে উপকূলীয় ২৮টি ইউনিয়নের মানুষকে ৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ থাকলে তাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে বলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধিকে জানান।

চট্টগ্রাম, ভোলা, ঝালকাঠী, লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলীয় সব জেলাতেই জনগণকে সতর্ক করার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়াসহ সরকার সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেশ প্রস্তুতি নিয়েছে। কক্সবাজার বিমান বন্দরে উঠানামা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরেও পন্য খালাস সীমিত রাখা হয়েছে। বন্দরে তিন নম্বর এলার্ট জারি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর‌্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া দুপুরে সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে বলেন, “বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। আশা, বিশ্বাস ইনশাআল্লাহ সে রকম কোন ক্ষয়ক্ষতি হবে না।”

তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যে ২৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৩ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কোমেন বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর উপর দিয়ে ঝড়োহাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আর ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের আওতায় থাকবে জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো।

৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের মানে হচ্ছে-বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ঝাবহুল এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে পড়েছে। ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের উপর বা পাশ দিয়ে ঊপকূল অতিক্রম করতে পারে। ৫ নম্বর বিপদ সংকেতে ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

অতি ভারি বর্ষণের প্রভাবে চট্রগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি থস হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। বিডিনিউজ২৪






মন্তব্য চালু নেই