মেইন ম্যেনু

‘ভয়ে’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেনি বিএনপি

আসন্ন পৌর নির্বাচনকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে এমনটি প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের। তাই কৌশল হিসেবে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে চাপে রাখতে চায় দলটি। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষে চেয়াপারসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক এলাকায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি যাবে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে মনোনীত নেতাদের প্রত্যয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়। রাজবাড়ী, নাটোর, মাদারীপুরের প্রত্যয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। খোদ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারা ক্ষোভ দেখায়! প্রথম দিন উৎসব মুখর পরিবেশ থাকলেও দ্বিতীয় দিনে ছিল তার উল্টো।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে যারা প্রত্যয়ন পেয়েছেন অর্থাৎ আসন্ন পৌর নির্বাচনে যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পৌর মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে লড়বেন তাদের তালিকা কৌশলগত কারণে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে সারাদেশে নেতাকর্মীদের হয়রানি চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতে পারে।’

বিএনপির পৌর নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। অভিযানের নামে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে। এ অবস্থায় মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌর নির্বাচনকে বিএনপি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।’

পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে অস্বস্তি। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দল এবং জোট নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভায় বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কামাল। ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খুলনা সফরের পথে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে হামলার শিকার হন। সে ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান খানের দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি এই জাহাঙ্গীর কামাল। মামলার এজাহারে তার নাম রয়েছে আসামির তালিকায় ১৫ নম্বরে।

জানা গেছে, অন্যান্য জেলার মতো মাদারীপুর জেলা বিএনপির নেতারা বৈঠকের মাধ্যমে একমত হয়ে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে কিছু নাম সুপারিশ করেছিল। সে সুপারিশে শিবচর পৌরসভায় জেলা নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম শফিক।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা মামলার আসামি হিসেবে যে চার্জশিট রয়েছে তার ফটোকপি বুধবার বিকেলে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিলি করেন শিবচর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রুমান।

তবে জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য মনে করেন, ‘যে কেউ ভুল করতেই পারে। ভুল করার পর ক্ষমা চেয়ে কেউ সঠিক পথে চলতে চাইলে তাকে সে সুযোগ দেয়াও উচিত।’

তবে ছোটখাটো দলীয় কোন্দলকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনে মনোযোগ দিতে চায় দলটি। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে ভরসা দেখছে বিএনপি। কমিশনের কার্যক্রমে বিএনপির পক্ষ বেশিরভাগ সময় জোরালো সমালোচনা করলেও কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টিও রয়েছে অনেক নেতার।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, ‘নির্বাচন অন্তত ১৫ দিন বাড়িয়ে দিলে সুন্দর স্বচ্ছভাবে প্রার্থী নির্বাচন সম্ভব হতো। কিন্তু আইনের দোহাই দিয়ে সেটি করেনি, সেজন্য আমরা একটু হতাশ হয়েছি। আমরা একদিকে আনন্দিত যে আচরণবিধি পরিবর্তন করেনি। এর ফলে আমি মনে করি যে নির্বাচনে যদি আমরা যাই তাহলে লেভেল প্লেইং ফিল্ড অনেকটা নিশ্চিত হবে। এ কারণে যে, এমপিরাও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। কিন্তু এখন তা পারবেন না।’বাংলামেইল



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই