মেইন ম্যেনু

মঈন খান কোথায়?

ইতালি নাগরিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক অনুষ্ঠানে কথা বলেছিলেন বিএনপি নেতা ড.আবদুল মঈন খান। তার সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বলেছিলেন- দেশে ফেরার পর এই অতিউৎসাহী নেতার ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেও এরপর থেকে মঈন খানের দেখা নেই। ব্যক্তিগত মোবাইলটিও বন্ধ। তিনি ঢাকায় আছেন কিনা তাও বলতে পারছেন না ঘনিষ্ঠরা।

তবে দলের একটি সূত্র জানায়, মঈন খান কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রসঙ্গত,গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন রাতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’জানায়।

হত্যার ঘটনা নিয়ে যখন সারাদেশে তোলপাড় তারমধ্যেই পরদিন এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আবদুল মঈন খান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে এদেশে কেউ পার পাবে না। আমরা জানি, পশ্চিমা বিশ্বে এই জুজুর ভয় দেখিয়ে এই সরকার হয়তো অনেক কিছু লুফে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হয়তো সাময়িকভাবে তারা লাভবান হতেও পারে। কিন্তু তারা যে সেটা পারবে না,জুজুর শিকার নিজেরাই হবে-তার প্রমাণ ঘটে গেছে গতকাল সন্ধ্যায়।”

ওই সময় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন সন্ধ্যায় সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে মঈন খানের বক্তব্যকে আমলে নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন,“ঢাকায় বিদেশি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপির এক নেতার ‘অতিউৎসাহ’ রহস্যজনক। ঢাকায় গিয়ে এ নেতার ‘অতিউৎসাহের’ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসে মঈন খান কি তাহলে গ্রেপ্তার হচ্ছেন? যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছ থেকে এই ধরণের কোনো নির্দেশনা নেই বলে দাবি করা হয়।

তবে নিউইয়র্কে মঈন খানের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার কথা বললেও ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

এদিকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জনের মধ্যেই হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যান সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দলের কর্মসূচিতে খুব বেশি পাওয়া না গেলেও এই শীর্ষ নেতা বিএনপির কূটনৈতিক বিষয়গুলোর দেখভাল করতেন। তবে তিনি কোথায় আছেন সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে নেই কোনো সুষ্পষ্ট বক্তব্য। মুখ খুলতেও অপারগতা প্রকাশ করছেন অনেকে।

মঈন খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে বিএনপি চেয়ারপারসনের এমন একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন,“আসলে তিনি কোথায় আছেন জানা নেই।হয়তো সার্বিক অবস্থার কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না।”

এদিকে গত তিনদিন ধরে মঈন খানের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।পরবর্তীতে শনিবার বিকালে তার ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে পরিচিত মিল্টন নামে একজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,“স্যার ঢাকায় নেই। কথা হলে আপনার কথা তাকে জানাবো।”ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই