মেইন ম্যেনু

মদনে শিক্ষককে মারধর করায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন, বাড়ীতে হামলা

সংবাদদাতা মদন (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার মদনে গনিত শিক্ষক আব্দুল কাদিরকে মারপিঠ করায় গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ের প্রঙ্গনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল, বিকালের ৮ম ও ১০ম শ্রেনীর পরীক্ষা বর্জন সহ শিক্ষক নির্যাতনকারী ছোট্টনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নোয়াগাও আফতাব হোসেন একাডেমিতে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায় , শনিবার বিকেলে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিমন মিয়া গনিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গণিত শিক্ষক আব্দুল কাদির বেতন ও পরীক্ষার ফিস বাবদ ৮শ টাকার মধ্যে ২শ টাকা বাকী থাকায় পরীক্ষার খাতা রেখে হল থেকে তাকে বের করে দেয়। পরীক্ষার্থী রিমন মিয়া তার অভিভাবক ভগ্নিপতি রাজদেওতলা গ্রামের ছোট্টন মিয়ার নিকট উক্ত ঘটনা প্রকাশ করলে তিনি রোববার সিংহের বাজারে শিক্ষক আব্দুল কাদিরকে পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে কিলঘুষি মারে।

এ খবর চতুড় দিকে ছড়িয়ে পড়লে প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাকে ও অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার অভিভাবক কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষকের মনোনীত কিছু সংখ্যক অভিভাবক ও শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসা করার লক্ষে নির্যাতিত শিক্ষক আব্দুল কাদিরের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে।

দরবারে ব্যাপক আলোচনার পর অভিযুক্ত ছোট্টন মিয়া কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা চাইলে শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে রায় প্রত্যাক্ষান করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ছোট্টন মিয়ার বাড়ীতে হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষক ও এলাকার লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ব্যাপারে ৮ম শ্রেণীর ভুক্তভোগী ছাত্র রিমন মিয়া জানায় ,গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বকেয়া ২শ টাকা না দেওয়ায় গণিত স্যার আব্দুল কাদির আমাকে সকলের সামনে লজ্জা দিয়ে খাতা রেখে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন।

হামলাকারী ছোট্টনের চাচা কবির খান জানান,মাত্র ২শ টাকা পাওনার জন্যে একজন ছাত্রের মন খারাপ করে পরীক্ষার হল থেকে এভাবে বের করে দেওয়া মানবিক কাজ হয়নি। এর পরও স্কুলে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার পর প্রধান শিক্ষকের সামনে কি ভাবে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে আমাদের বাড়ীতে হামলা চালালো তা ভাবতে অবাক লাগে।

প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার সোমবার বিকালে ৮ম ও ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষা বর্জনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় এ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা মীমাংসা করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্যাতিত শিক্ষক আব্দুল কাদিরকে সোমবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত না পেয়ে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করে ও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ খবর লিখা সময় পর্যন্ত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা চলছে।






মন্তব্য চালু নেই