মেইন ম্যেনু

মধুর হাসি হাসতে নিজেই হোন দাঁতের ডাক্তার!

সকালের একটা মধুর হাসি আপনার জন্য লাখ টাকার প্রশান্তি এনে দিতে পারে। তবে তার জন্য চাই সুন্দর, সুস্থ-সবল দাঁত। কিন্তু দাঁত থাকতে কি দাঁতের মর্যাদা আমরা দিচ্ছি? অনেকেই দিতে পারছি না। আর অনেকেই নিজের অজান্তে নিজেদের ক্ষতি করে ফেলছি। এ কথা ডেন্টিস্টদের।

তারা বলছেন, অনেকেরই দাঁত ব্রাশ করার পদ্ধতিটিই ভুল। সময় নির্বাচন ভুল। আবার অনেকেই ব্যবহার করছেন মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ। আর একটি গবেষণাতো এও দেখাচ্ছে, অনেক মানুষ সকালের দাঁত ব্রাশকেই উপেক্ষা করেন। এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে লন্ডনের স্মাইলিং ডেন্টাল গ্রুপ’র চিকিৎসকরা দাঁতের যত্নের উপায় বাতলেছেন। এখানে সেগুলো তুলে ধরা হলো:

উপর-নিচ করে ব্রাশ নয়
উপর-নিচ করে ব্রাশ করলে মাড়িতে ঘষা লাগে আর তাতে ক্ষতিই বাড়ে। বরং বৃত্তাকারে ধীরে দাঁতগুলোকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতির দাঁতব্রাশ ব্যবহার করলে বৃত্তাকার পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য। উপর দিয়ে টেনে বা ঘষে নেওয়া নয়, ব্রাশ পৌঁছাতে হবে দাঁতের মাড়ির ফাঁকে ফাঁকে। কারণ ও ফাঁকাগুলোতেই লুকিয়ে থাকে ব্যাকটেরিয়া। আর ঠিক মতো ব্রাশ না করা হলে মাড়ি থেকে রক্ত বের হতে থাকে। বেশি নরম কিংবা বেশি শক্ত ব্রাশ নয় ব্যবহার করতে হবে মধ্যম শক্তির ব্রাশ। দাঁত আঁকা-বাঁকা হলে হাত ঘুরিয়ে কৌনিকভাবে সেখানেও পৌঁছাতে হবে ব্রাশ। আর দুই পাটি দাঁতকে চারভাগে ভাগ করে প্রতিভাগেই ব্রাশিং সমান সময় দিতে হবে। যারা ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার করছেন তাদেরও একইভাবে বৃত্তাকার পদ্ধতিতে ব্রাশ করতে হবে।

অনেকের মধ্যেই প্রবণতা ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ব্রাশ করা শেষ করে দেন। ডেন্টিস্টরা বলছেন, তাদের ব্রাশিংয়ের সময় বরাদ্দ বাড়াতেই হবে। দাঁত ব্রাশ করা নয়, যত্ন নিচ্ছেন এই মনোভাব থেকে কাজটি করলেই সময় নিয়ে করা হবে। কারো কারো কাছে দুই মিনিট সময়টি বেশ বড়ই। কিন্তু অন্তত দুই মিনিট ব্রাশ আপনাকে করতেই হবে। আর সম্ভব হলে পাঁচ মিনিট ধরেই ধীরে সুস্থে করুন না, ক্ষতি কী?

চ্যুয়িংগাম চিবানো সর্বোচ্চ ১০ মিনিট
চ্যুয়িংগাম চিবালে দাঁতের ক্ষতি, সে কথা সর্বজন গ্রাহ্য। কিন্তু তারপরেও আমরা চিবিয়ে যাই। কারো কারো ঘণ্টা ধরে মুখে চ্যুয়িংগাম চিবোনো চলে। এখানেই ডেন্টিস্টদের না। তারা বলছেন, চ্যুয়িংগাম যদি চিবোতেই হয় সর্বোচ্চ দশ মিনিট। বলছেন, ঘ্রাণ উবে গেলে আর চিবোনোই কেনো? ফেলে দিন না।

তা না হলে দাঁত নরম হয়ে আসবে। মাড়িও দুর্বল হবে।

আর কেবল তাই নয়, চ্যুয়িংগাম আপনার পেটে ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। তখন খেতে না পারলে অ্যাসিড তৈরি হয়। ফলে চ্যুয়িংগাম প্রাকারান্তরে পাকস্থলীতে আলসারের কারণ হয়ে বসে।

স্ট্রবেরি বা বাইকার্বোনেট সাদা করবে
স্ট্রবেরিকে দাঁত সাদা করার প্রাকৃতিক উপায় বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বলেছেন, আটটি স্ট্রবেরি, পাকা ও নরম হলেই ভালো, আর আধা চা-চামচ সোডার বাইকার্বোনেট দিয়ে পেস্ট বানিয়ে তার ব্যবহার দাঁতকে সাদা করে তুলবেই। তুলোয় পেস্ট লাগিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁত ঘষে নিতে হবে। কফি, চা কিংবা ধূমপানের কারণে দাঁতে যে বিবর্ণতা তৈরি হয়, এই বাই কার্বোনেট তা দূর করে। দাঁতের উপরিতলের ময়লা দূর করে তাতে আরও সাদা ও উজ্জ্বল মনে হয়।

আর স্ট্রবেরিতে থাকে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, এক অতি শান্ত অ্যাসিড যা দাঁতের উপরিতলের দাগ দূর করে উজ্জ্বল করে তোলে।

শক্ত পনিরও দাঁতকে একইভাবে সাদা ও স্বাস্থ্যবান রাখতে পারে, মত ডেন্টিস্টদের। কারণ হিসেবে বলেছেন, পনির প্লাক অ্যাসিড অকেজো করে দেয় ফলে মুখে ক্ষারের পরিমান বাড়ে এবং দাঁতের চারিদিকে এক ধরনের সুরক্ষা প্রলেপ তৈরি হয়।

বলা হয় উজ্জ্বল রঙা খাবার এড়িয়ে চললেও দাঁতের দাগ কমানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, যে খাবার একটি সাদা শার্টে ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা দাঁতের জন্যও ক্ষতিকর।

নাস্তার আগেই ব্রাশ করুন
অনেকের ভাবনায় থাকে নাস্তার পর ব্রাশ করাই ভালো। কিন্তু তারা ভুল। কোনও কিছু খাওয়া বা পান করার পরে নয় আগেই ব্রাশ করা ভালো, এমনটাই বলছেন গবেষকরা।

অনেকেই আমরা সকালের নাস্তায় অ্যাসিডিক খাবার খাই। আঙুর, কমলা, ফলের জুস ইত্যাদি। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল দুর্বল করে ফলে ওই সময় ব্রাশ করলে দাঁত এনামেল হারাবে।

এছাড়াও খাবারের চিনিতে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়, এতেও তৈরি হয় অ্যাসিড। তাতে এনামেল আরও দুর্বল হয়।

তাহলে খাবারের পরে ব্রাশ করা মানেই হচ্ছে আপনি চিনিকে সরাসরি দাঁতের ওপর ঘঁষে দিচ্ছেন, এনামেল সরিয়ে দিচ্ছেন।

খাবারের আগেই ব্রাশ করলেন কিন্তু ফ্রেশ মুখে বাইরে যেতে চান, তাহলে ঘণ্টা খানেক আগেই খেয়ে ফেলুন, আপনার মুখের লালা এই সময়ের মধ্যে অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে, তখন ব্রাশ করুন।

বিষয়টি রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তখনও খাবারের পর অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে আপনার সবশেষ কাজটি হোক দাত ব্রাশ। তাতে খাওয়া আর ব্রাশিংয়ের মাঝে ব্যবধান বাড়বে।

রাতের ব্রাশিংটা খুব জরুরি কারণ রাতে মুখে লালা তৈরি হয় কম।

মুখের লালা থাকে কোষভর্তি হয়ে, ফলে দাঁতের চারিদিকটা থাকে সংরক্ষিত, একই সঙ্গে ক্ষারও কম থাকে যা মুখের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে।

রাতে মুখের লালা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়ার দাপট শুরু হয়। দাঁত ব্রাশ করে তা দূর করতে হবে।

রাতে দাঁত পরিষ্কার করে খুব বেশি কুলকুচি না করা ভালো, তাতে বেশিমাত্রায় ফ্লোরাইড থাকতে পারে। আর ব্রাশ করার পর মুখে পানি ছাড়া আর কিছুই দেবেন না।

জিভ ব্রাশ করুন
ফ্রেশ শ্বাস নিতে হলে জিভ পরিষ্কার রাখতে হবে, অথচ প্রত্যেকে ঠিক এই কাজটিই ভুলে যায়। জিভ ব্রাশ করতে হবে কারণ জিভেই ব্যাকটেরিয়ার বাস। জিভ থাকে সবসময় ভেজা, স্পঞ্জি, খাঁজে ভরা যাতে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া লুকিয়ে থাকতে পারে।

ব্যাকটেরিয়া থেকে সালফার নির্গত হয় যা যে কারো শ্বাস-প্রশ্বাসকে দুর্গন্ধময় করে তোলে। স্রেফ জিভ পরিষ্কার করে এই দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব।

টুথব্রাশ কিংবা টাঙ স্ক্র্যাপার দিয়েই জিভ পরিষ্কার করা যাবে।

ইলেক্ট্রিক টুথ ব্রাশের ব্যবহার
প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে দাঁতের ব্রাশিংয়েও এর ছোয়া লেগেছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ সাধারণ ব্রাশের তুলনায় ভালো কাজ করে। ওয়াশিং মেশিন কাপড় পরিষ্কার করে দিতে যেমন ভুমিকা রাখে এই ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশও একই ধরনের সুবিধা দেয় দাঁত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে।

ফ্লোস ব্যবহার নিয়মিত
নিয়ম মেনে প্রতিদিন দাঁত ফ্লোস করা প্রয়োজন। তবে একদিন পরপর করলেও চলবে। গবেষণায় আগেই দেখা গেছে দাঁতে ফ্লোসের ব্যবহার কারো জীবনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যারা মাড়ির রোগে ভুগছেন তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে, আর তাদের জন্য বিষয়টি আরও বেশি প্রযোজ্য।

মাড়ির সমস্যায় মুখের ব্যাকটেরিয়া রক্ত প্রবাহে মিশে যায়, যা আর্টারিতে গিয়ে জমা হয় আর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ফ্লোস নিয়মিত করলে ব্যাকটেরিয়াগুলো এই ক্ষতি ডেকে আনতে ব্যর্থ হবে।






মন্তব্য চালু নেই