মেইন ম্যেনু

‘মধ্য আয়ের দেশ’ স্বপ্নের নীতিগত সমর্থন আদায়

২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। আর এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে দাতাগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ সরকার যে আশা ও পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ) বৈঠকে বসেছিল, তার সিংহভাগ পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন সহযোগিদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কি আরো সুদৃঢ় হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এই বৈঠক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে এ সংক্রান্ত কয়েকটি খাতে দাতারা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। এমনকি খাতভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোরও আশ্বাস দিয়েছে।

সম্মেলনের মূল আয়োজক অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর বিনিয়োগ প্রয়োজন জিডিপির ৮ থেকে ১০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগ হচ্ছে জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রয়োজন এবং জোগানের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে।

তিনি বলেন, বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রেসিডেন্ট জিন লিকুইন, এডিবির সিনিয়র সহসভাপতি ওয়েংকাই ঝাংসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। সেই সঙ্গে ভারত ও চীনসহ অপ্রচলিত উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সবার সামনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নের কৌশল, চ্যালেঞ্জ ও এরই মধ্যে এমডিজিতে আমাদের অর্জনগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। সকল বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।

সচিব বলেন, শিগগিরই এই সম্মেলনের মূল্যায়ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তখন আরো বিস্তারিতভাবে সকল বিষয় জানা যাবে।

সম্মেলনে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো, সুশাসন, স্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, সামাজিকসুরক্ষা এবং উন্নয়নের মূলধারায় জেন্ডারকে আনয়ন ইত্যাদি বেশকিছু সংখ্যক অগ্রাধিকার খাতে সুনির্দিষ্ট মতামত ও যৌথ ইস্তেহার ঘোষণা করা হয়েছে।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য এবং সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো খাত উন্নয়ন, সামাজিকসুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার অংশ। এছাড়া এই পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দাতা গোষ্ঠীর যে রকম সহযোগিতা আশা করা হয়েছিল, এই সম্মেলনে তার ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এ হিসেবে বলা যায়, এ ক্ষেত্রে আমরা এক ধাপ এগিয়েছি।

ড. শামসুল আলম আরো বলেন, সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সম্পদের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। এতে দাতাদের ইতিবাচক মনোভাবও পাওয়া গেছে।

সম্মেলনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নকে ঘিরে একটি কিনোট সেশন এবং ছয়টি ওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৫ নভেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো এই বৈঠক।

২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে এর আগের বিডিএফ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।






মন্তব্য চালু নেই