মেইন ম্যেনু

মনপুরায় মেঘনা নদীতে ১০টি রুটে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে চলছে যাত্রী ও মালামাল পারাপার

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে ১০টি রুটে ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত ছোট ট্রলারে চলছে যাত্রী ও মালামাল পারাপার। বৈরী আবহাওয়ায়ে এসব ছোট ট্রলারে পারাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না ট্রলার মালিকরা। এদিকে, অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়েই উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষকে।

অন্যদিকে, একের পর এক নৌ দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। এতে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ডেঞ্জার জোন পয়েন্ট দিয়েই পারাপার অব্যাহত রয়েছে। ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব রুটে গত এক মাসেই ঘটেছে ৫টি দুর্ঘটনা। এতে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৯ জন। অভিযোগ রয়েছে, পারাপারের ঘাটগুলোর ইজারার দায়িত্বে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র থাকায় অবৈধভাবে চলছে এসব নৌযান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলা সদরের সাথে বিচ্ছিন্ন চর, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন, লালমোহন ও হাতিয়া উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌপথ। তাই এসব চরের সংযোগ পথেই চলছে অবৈধ ছোট ছোট ট্রলার। ফিটনেস ও অনুমোদনবিহীন অবৈধ ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলারের সংখ্যাও তাই দিন দিন বাড়ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাজিরহাট-কলাতলী, রিজিরখাল- চেয়ারম্যানের ঘাট, মনপুরা-তজুমদ্দিন, রামনেওয়াজ-কলাতলী, হাজিরহাট-মঙ্গল সিকদার, মনপুরা-ঢালচর, হাজিরহাট-চরফ্যাশন, জনতা বাজার-চরফ্যাশন, মনপুরা-সন্দ্বীপ ও মনপুরা-চর নিজাম। এসব রুটে শুষ্ক মৌসুমে নদী শান্ত থাকলেও বর্ষা মৌসুমে অশান্ত হয়ে উঠে।

রামনেওয়াজ ঘাটের যাত্রী আবু কাসেম, রহিম, সালাউদ্দিন, লোকমান ও সিরাজ জানান, প্রয়োজনের তাগিদেই তারা জীবনবাজি রেখে এ পথে যাতায়াত করেন। নিরাপদ নৌযান চললে তাদের এমন ঝুঁকি নিতে হতো না। হাজিরহাট এলাকার লোকমান হোসেন বলেন, ট্রলারগুলোর ফিটনেস নেই, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই তারা উত্তাল নদী পার হয়। যাত্রীরা বাঁধা দিলেও নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো পারাপার করে ট্রলারগুলো। যাত্রীদের অভিযোগ, নিয়মিত অভিযান, নৌযানের ফিটনেস পরীক্ষা না করা, চালকদের প্রশিক্ষণ না থাকা, বৈরী আবহাওয়ায় সতর্কতা জারি না করা এবং কোনো দুর্ঘটনায় তদন্ত বা দায়ীদের শান্তি না হওয়ায় কোনো নিয়ম মানছে না ট্রলার মালিকরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ আলী বলেন, উত্তাল মেঘনায় ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও ট্রলার চলাচল করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই