মেইন ম্যেনু

মনিমুক্তার শেষ ফোন: ‘আমাকে ওরা মেরে ফেলছে, ওদের হাত থেকে বাঁচাও’

‘মৃত্যুর ঠিক ১০ মিনিট আগে ফোন দিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন মনিমুক্তা, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করতে পারেননি তার ভাই। বোন আমাকে ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত গৃহবধূ মনিমুক্তার ভাই জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই বোনের মৃত্যুর কথা বলেন তিনি।

বরিশালের মেয়ে মণিমুক্তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেনের আয়োজন করে নিহতের স্বজনরা।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফোনে সম্পর্কের মাধ্যমে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বরিশালের বলইকাঠি গ্রামের শামছুল হক হাওলাদারের মেয়ে মনিমুক্তার সঙ্গে ছয় বছর আগে বিয়ে হয় পাবনার সুজানগর উপজেলার ঘোড়াদহ গ্রামের কাফিল উদ্দিন শেখের ছেলে শাহজাহান শেখের।

বিবাহিত জীবনে তাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ৬ জুন।

পরিবারের অভিযোগ, মণিমুক্তাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। এ হত্যাকে তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

কিন্তু মনিমুক্তা মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে তার ভাই জাকির হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে চিৎকার করে বলেছিল, ‘আমাকে ওরা মেরে ফেলছে, আমাকে ওদের হাত থেকে বাঁচাও’।

এ ঘটনার ১০ মিনিট পরই মণিমুক্তার স্বামী শাহজাহান শেখ ফোন করে জাকির হোসেনকে জানান, তোমার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।

লিখিত বক্তব্যে মণিমুক্তার ভাই জাকির হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই মণিমুক্তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ঘটনার দিনও তাকে বেদম শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

মণিমুক্তা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করা হয়।

জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর পাবনার সুজানগর থানায় ঘটনার বর্ণনা করার পরও অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ তাদের মামলা না নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করে। মনিমুক্তা আত্মহত্যা করেছে বলে লিখিত দিয়ে লাশ থানা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়।

নিরূপায় হয়ে তারা জেলা পুলিশের স্মরণাপন্ন হলে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মণিমুক্তার স্বামী শাহজাহানের ভগ্নিপতি আব্দুস সালাম এলাকার প্রভাবশালী নেতা। তাই থানার ওসি হত্যা মামলা হিসেবে না নিয়ে উল্টো খারাপ আচরণ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত মনিমুক্তার ভাই জসিম উদ্দিন ও সেলিম হোসেন।

এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ওসি শাকিল আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাইনি। তাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নিতে পারছি না। মামলা না নিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।






মন্তব্য চালু নেই