মেইন ম্যেনু

মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে কামাল নাসেরের পাল্লাই ভারি

প্রশাসনযন্ত্রে বড় ধরনের রদবদল আসছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ সচিব থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এই রদবদল আসছে। আগামী মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়ার চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক পদে ড. মোহাম্মদ তারেকের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞার যোগদানে সরকার অনুমোদনও করেছে এরই মধ্যে। এই পদে সাবেক অর্থসচিব ড. মুহম্মদ তারেকের মেয়াদ গত আগস্টে শেষ হয়।

এদিকে মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞার স্থলে কে আসছেন তা নিয়ে এরই মধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর কথা জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজদের নাম শোনা গেলেও দৌড়ে জনপ্রশাসন সচিবই এগিয়ে রয়েছেন।

আগামী ৬ জানুয়ারি অবসরে যাচ্ছেন বর্তমান মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব তিনি এ পদে আসছেন না। প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে ভূমি সচিব শফিউল আলমের কথাও শোনা যাচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে কোনো কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার বিধান না থাকায়, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আবুল কালাম আজাদ এ পদে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদোন্নতি পেলে জনপ্রশাসন সচিব পদে কে আসছেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

আর এই পদে জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক ও বাণিজ্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে প্রশাসনযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিকি এগিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে জনপ্রশাসনে জ্বালানি বা বাণিজ্য সচিব যাকেই দেয়া হোক না কেন সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সচিব পদের একটি শূন্য হবে। জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসেরের বিয়াই রেল সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন এবং র্পূর্ত সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহর নামও জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আবার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব এম এ কাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।ফলে তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব(এপিডি) মহিবুল হক সরে যেতে চাইছেন। তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তাকে দেয়া হতে পাবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান সরকারের সুনজরে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আবুল কালাম আজাদের অবসরে যাওয়ার পর ঐ পদে ড. মোজাম্মেল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া এ বছরই অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাচ্ছেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ, প্রাণী সম্পদ সচিব ড. শেলীনা আফরোজা, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরস্তু খান, যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লা ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সচিব পরীক্ষিৎ দত্ত চৌধুরী।

অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদের চাকরির মেয়াদ আরো দু’বছর বাড়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ সচিব পদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এই মুহূর্তে তাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সরাতে চাচ্ছে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল সিপারের চাকরির মেয়াদ দু’বছর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করায় তা নিয়ে প্রশাসনের আলোচনা সমালোচনায় পড়েছে সরকার। একারণে সচিব পদে চাকরির মেয়াদ আর কারো বাড়ছে না।

যেসব মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে শূন্য হচ্ছে তা পুরন করতে ১৪ জনের নামে তালিকা দিয়ে একটি সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন সচিব পদে কাদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তা আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত হতে পারে।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই