মেইন ম্যেনু

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন : সচিব থেকে পিয়ন সবাই কর্মচারী

সচিব থেকে পিয়ন বা এমএলএসএস সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী। এমন কথাই বলা হয়েছে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৫’-এর খসড়ায়। এর কোথাও কর্মকর্তা শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি।

রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমান সুযোগ-সুবিধা রেখেই এই আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়ায় ক্যাডারভুক্তদের ‘ক্যাডার কর্মচারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পৃথকভাবে না দেখিয়ে আইনে ‘কর্মচারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের শ্রেণিবিন্যাসের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘আইনের খসড়াটি সবেমাত্র মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। এটি প্রজ্ঞাপন হিসেবে জারি হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি, আইনটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও কার্যকর হবে। আইনে কাউকে কর্মকর্তা, আবার কাউকে কর্মচারী হিসেবে দেখানো হয়নি। সবাইকে সরকারের কর্মচারী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও সরকারের সকল পর্যায়ে কর্মরতদের ‘কর্মচারী’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আরো বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়নের বিষয়ে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদে নির্দেশনা রয়েছে। এটি হচ্ছে একটি আমব্রেলা আইন। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অন্য যেসব আইন ও অধ্যাদেশ রয়েছে, এগুলো সবই এ আইনের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত এই আইনের খসড়াটি গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভা নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটিই হচ্ছে প্রথম আইন। প্রস্তাবিত এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, ‘যেহেতু সংবিধানে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্যরূপে বিধৃত হইয়াছে, যেহেতু স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং জনবান্ধব ও তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ সরকারি সেবা-ব্যবস্থাপনার নিশ্চয়তা বিধান করা আবশ্যক’।

খসড়া আইনের ৪ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কর্মচারী বলিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারী বুঝাইবে’। ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারের বিভিন্ন কর্ম-বিভাগে কর্মসম্পাদনের জন্য নিযুক্ত কর্মচারীর সমন্বয়ে পৃথক ক্যাডার গঠিত হইবে এবং সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিটি ক্যাডারের কাঠামো এবং সদস্য সংখ্যা প্রকাশ করিবে।’

৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং সুষ্ঠু কর্মচারী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সময়ে সময়ে সরকারি কর্মচারীগণের কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ ও নির্দিষ্টকরণ, কর্মচারী শ্রেণিসমূহের গঠন ও পুনর্গঠন, ক্যাডার বা নন-ক্যাডার সার্ভিসের গঠন ও পুনর্গঠন, বিশেষায়িত/কারিগরি ও সাধারণ ক্যাডার সার্ভিসমূহের বিন্যাস-পুনর্বিন্যাস, কোনো সার্ভিসকে ক্যাডারভুক্ত বা ক্যাডারবহির্ভূত ঘোষণা এবং কর্মচারীগণের বেতন-ভাতাদি, আর্থিক সুবিধা, পদ-পদবি, কর্তৃত্ব বা কর্তৃত্বের পরিধি বিধি দ্বারা সুনির্দিষ্টকরণ এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব সরকারের থাকিবে’।

৭ (ক) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘কর্মচারীগণের শ্রেণী, পে-গ্রেড, ক্যাডার বা নন-ক্যাডার সার্ভিস বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রবেশপদে শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, প্রারম্ভিক ও সর্বশেষ বয়সসীমা সুনির্দিষ্ট থাকিবে’।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আরো বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সরকারি কর্মচারী আইন ও আমাদের দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই