মেইন ম্যেনু

মন্ত্রিসভায় বেতন কমিশনের রিপোর্ট পেশ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হয়েছে।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সকালে শুরু হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির দেয়া প্রস্তাবনায় থাকছে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আজ কি সিদ্ধান্ত তাই দেখার বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ধরনের নির্দেশনা থাকলে হয়তো বিষয়টি নিয়ে আবার পর্যালোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পে-স্কেলের সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে তা আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কমপক্ষে দুই মাস লেগে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পে-কমিশনের রিপোর্ট সচিব কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তা ফেরত এসেছে জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে। ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশনের রিপোর্টে সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান সিলেশন গ্রেড ও টাইম স্কেল তুলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এর পরে চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়। পে-কমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনাকারী সচিব কমিটিও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেয়ার পক্ষেই সুপারিশ করে।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেয়ার প্রস্তাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকসহ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা বিষয়টির সুরাহা না করে কমিশনের প্রতিবেদন অনুমোদন না করারও দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলনেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি থমকে যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশনের প্রতিবেদনটি গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিপোর্টে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন শতভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ বেতন ৮০ হাজার টাকা, সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২০০ টাকার করার সুপারিশ করে। সরকারি বেতন গ্রেডের সংখ্যা বিদ্যমান ২০ থেকে ১৬তে নামিয়ে আনারও সুপারিশ করা হয়।

এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও পর্যবেণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি পর্যবেণ কমিটি গঠন করা হয়। সচিব কমিটি তাদের সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন আট হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়।

একই সাথে সচিব কমিটির প্রতিবেদনে বেতনের ধাপ বা স্কেল ২০টিই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিটি এই ধাপ ১৬টিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছিল। পে-কমিশনের সুপারিশের সাথে একমত পোষণ করে সচিব কমিটি সরকারি চাকুরেদের জন্য বিদ্যমান টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের কথা বলে। ফরাসউদ্দিন নেতৃত্বে পে-কমিশন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের বেতন মাসিক এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। সচিব কমিটি তা কমিয়ে ৯০ হাজার করার প্রস্তাব করেছে।

অর্থ বিভাগের অন্য সূত্র জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পরও পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে অনেক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সেগুলো শেষ হতে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত লেগে যাবে। সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পান এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। এদের সবার জন্য বেতন নির্ধারণের ছক পূরণ করতে হবে। প্রতিটি ছকের জন্য ৩৩টি বিষয় রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসামরিক, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্বশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, বেসামরিক ক্ষেত্রে নার্সিং পেশায় নিয়োজিত ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বেতন স্কেলসংক্রান্ত সাতটি বই তৈরি করতে হবে। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বই তারা নিজেরাই তৈরি করবে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে দুই মাস লেগে যাবে।






মন্তব্য চালু নেই