মেইন ম্যেনু

মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে বরিশালের ৩০ বেইলি ব্রিজ

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল : দিনে দিনে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে জেলার দশটি উপজেলার ৩০টি বেইলি ও আয়রন ব্রিজ। অধিকাংশ বেইলি ব্রিজগুলোর প্লেট সরে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। আবার কিছু ব্রিজের মাঝ বরাবরই ভেঙ্গে গেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে জেলার প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন। এ অবস্থায় প্রাণহানীসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

সূত্রমতে, হিজলা উপজেলার সদরটেক বেইলি ব্রিজ এবং হিজলার কাউরিয়া ও মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিকের সংযোগ স্টিল ব্রিজের মাঝামাঝি ভেঙ্গে গিয়ে দীর্ঘদিন থেকে হেলে রয়েছে। ফলে ওই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সেতু দুটি হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের সংযোগ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ন এ সেতু দুটি পুনঃসংস্কারের দাবী করে আসছে এখানকার মানুষ। অপরদিকে নাজুক অবস্থায় থাকা খুন্না বন্দরের সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত অধিক ঝুঁকির মুখে চলাচল করছে সেখানকার কয়েক হাজার মানুষ। মুলাদী উপজেলার প্যাদারহাট বেইলি ব্রিজটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর চাল বোঝাই ট্রাকসহ ধ্বসে পরেছে। রাখুয়া ও সদরের বেইলি ব্রিজ তিনটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাখুয়ায় ব্রিজের প্লেট ভেঙ্গে পড়ে গিয়েছে। এছাড়া সদরের বেইলি ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে কয়েকজন ব্যক্তি গুরুতর আহতও হয়েছে।

প্যাদারহাট এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানান, এ ব্রিজ মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি বাস ও মালিক শ্রমিকেরা অসংখ্যবার সওজকে চিঠি দিয়ে মেরামতের তাগিদ দিলেও কোন সুফল মেলেনি।

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পেয়ারপুর ব্রিজের গারুড়িয়া ইউনিয়নের অংশে নেমে আসা ঢাল মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঢালের সংস্কার না হলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আংশকা রয়েছে। সম্প্রতি সময়ের প্রচন্ড বৃষ্টিতে ব্রিজের দুই ঢালের ড্রেনে ফাঁটল ধরে ব্রিজের মধ্যে থাকা বালু সরে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসি যানবাহনের দূর্ঘটনা এড়াতে গাছের ডাল ভেঙ্গে গর্তের ভিতর স্থাপন করে বিপদ চিহ্ন প্রদর্শণ করছেন। বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, শুধু পেয়ারপুর নয়, ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বোয়ালী বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের বেইলি ব্রিজগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ন। প্রায়ই ব্রিজের প্লেট পরে যায়। তখন পৌরসভার মধ্যদিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এ ব্যাপারে বারবার সওজকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকা বানারীপাড়া উপজেলার রায়েরহাটের ব্রিজর মাঝে বিশাল ফাঁটল দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে ব্রিজটি একই অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সওজ কর্তৃপক্ষ ওই ব্রিজদিয়ে ট্রাকসহ ভাড়ি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ গোলাম ফারুক জানান, রায়েরহাট ব্রিজটি যেকোন সময় ধবসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এ ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়লে বরিশালের সাথে স্বরুপকাঠি ও বানারীপাড়ার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন হয়ে যাবে। একই উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ব্রিজটির অবস্থায় করুন হয়ে পড়েছে।

এদিকে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ডের উত্তর পাশের শাহী ৯৯ পার্কে প্রবেশের আয়রন ব্রিজ, নলচিড়া ইউনিয়নের গরঙ্গল আফসের উদ্দিন খলিফার বাড়ির সামনের ব্রিজ ও পশ্চিম বার্থী এলাকার সেতুটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সেতুর আয়রন স্ট্রাকচারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদী দূর্বৃত্তরা খুলে নেয়ায় এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। এছাড়া উজিরপুরের সানুহার-সাতলা সড়কের ধামুড়া ও কাংশি ব্রীজ, বাবুগঞ্জের কেদারপুর, আগরপুর, স্টিলব্রিজ, মাধবপাশা, গুঠিয়ার বেইলি ব্রিজ, আগৈলঝাড়ার ফুল্লশ্রী বাইপাস সড়কের পূর্ব পারের বেইলি ব্রিজ, মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার বেশ কয়েকটি ব্রিজসহ জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ৩০টি বেইলি ও আয়রন ব্রিজ অধিক ঝুঁকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ শাহেদ জানান, জেলার সকল ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ অপসারন করে সেখানে নতুন করে ব্রিজ স্থাপন করার জন্য তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি কমাতে মেরামত কাজ করে ব্রিজগুলো সচল রাখা হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপুর্ন ব্রিজে পাঁচ টনের অধিক ওজনের গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই