মেইন ম্যেনু

মরার অধিকার পেল ফরাসিরা

‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘প্রাণ’ কবিতায় বুঝিয়েছেন- কেউই সুন্দর এ পৃথিবী ছাড়তে চান না। পৃথিবীর রূপ-রস গন্ধে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পছন্দ করেন মানুষ। কিন্তু অনেক সময় অনেকেই স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চান। আরোগ্য অসুখে আক্রান্তরা দীর্ঘদিন যন্ত্রণা-কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পান না।

লাইফ সাপোর্টে বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন- গত বছর ফ্রান্সের একটি আদালতের দেওয়া রায় শুক্রবার বহাল রেখেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালত। ফলে রোগে ভোগা ব্যক্তিরা এখন মরার অধিকার পাবেন।

তবে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বিষয়টি ফ্রান্সে আবির্ভূত হয় ভিনসেন্ট লিমবার্টকে (৩৯) নিয়ে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গত সাত বছর ধরে তিনি কোমায় রয়েছেন। তাকে বাঁচিয়ে রাখা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগা পরিবারের সদস্যরা আদালতের দারস্থ হন।

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত গত বছর তার সাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পর দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। চেতনানাশক ওঘুধ ফান্সের নিষিদ্ধ। তাই কোনো ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় মরার অধিকার নেই দেশটিতে। বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করতে ওই বছরই ইউরোপিয়ান আদালতে তোলা হয়।

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্ব শহর রেইমসের একটি হাসপাতালে লিমবার্টকে শিরায় মাধ্যমে খাবার ও পানি সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী, ভাই-বোন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, যেহেতু তার আরোগ্য লাভের কোনো আশা নেই, তাই তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা আর ঠিক হবে না। আর বাঁচতে চান না লিমবার্ট নিজেও। এর আগে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান লিমবার্ট।

রায়ের পর তার স্ত্রী রাচিল লিমবার্ট বলেন, ‘এ অবস্থায় তার স্বামী আর বেঁচে থাকতে চান না। এখানে কোনো রোগমুক্তি নেই, কোনো আনন্দও নেই। এখন তার ইচ্ছায় পূর্ণ করা হবে।’

কিন্তু রোমান ক্যথোলিক ধর্মাবলম্বী লিমাবার্টের বাবা-মা এখনো বিশ্বাস করেন, ‘তার ছেলে ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।’

তাকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর অধিকার দেওয়া হবে কি না, এখনো বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। লিমবার্টের বাবা-মার নিয়োগকৃত আইনজীবী জিন পাইলট জানিয়েছেন, সাইফ সাপোর্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পালন করতে পারেন শুধুমাত্র চিকিৎসকরা। তবে ফান্সের আদালতের মাধ্যমে তার নতুন চিকিৎসার উপায় অনুসন্ধান করার কথা জানান পাইলট।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই