মেইন ম্যেনু

মরুভূমির বুকে বিস্ময়কর বরফ নদী (ভিডিও)

নদী তো কত রকমের হয়। গরম পানির নদী, কয়লার নদী, শীতল পানির নদী থেকে শুরু করে প্রচণ্ড আশ্চর্য রকমের মাছবিহীন নদীও রয়েছে পৃথিবীতে। সেগুলোর অনেক নদীর অবস্থান পৃথিবীর শীতপ্রধান এলাকায়। যে স্থানে বছরের বেশির ভাগ সময়েই নদীর পানিতে ভাসে বরফের আস্তর। তবে সে তো খুব ঠান্ডা হলে তবেই। কিন্তু এমন নদীর কথা কি শুনেছেন যেখানে তপ্ত বালির বুক চিরে বয়ে যায় বরফ টুকরো?

মরুভূমিতে কোন জিনিসটি খুব বেশি পরিমাণে থাকে? আপনিও বলবেন, সহজ উত্তর- বালি। সত্যি বলতে কি মরুভূমিতে বালি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেমন লাগবে আপনারা যদি দেখেন মরুভূমির তপ্ত আর ঝরঝরে বালির বুক চিরে বয়ে চলেছে খরস্রোতা এক নদী? তাও আবার যে সে নদী নয়। বরফের নদী! অবাক হলেন? মরুর বালির ভেতরে বরফ কেন, সামান্য পানিই যেখানে মরীচিকার মতো, সেখানে কিনা বয়ে চলেছে বরফের নদী? অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। তবে এমন ঘটনাই সত্যি হয়েছে। আর সেটাও ঘটেছে মরুভূমির জন্য বিখ্যাত দেশ ইরাকে।

এমনিতে শুষ্ক আর রুক্ষ হলেও কিছুদিন আগে হঠাৎ করে টানা ঝড় আর বর্ষণ হয় ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডনা ও সৌদি আরবে। এতে দেশগুলোতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। আর এই প্রবল বর্ষণের ভেতরেই কোন একটা সময়ে খানিকটা পানি ইরাকের মরুভূমির বালির ভেতরে গিয়ে আটকে গিয়েছিল বলে ধারণা অনেকের। এবং ক্রমে ক্রমে প্রকৃতির খেলায় সেগুলো জমাট বেঁধে রূপ নেয় বরফে। তৈরি করে বরফ নদীর। বর্তমানে অবশ্য এই নদীকে স্থানীয়রা বালুর নদী বা স্যান্ড রিভার বলে ডাকছে।

সাধারণত এমন শুষ্ক এলাকাগুলোতে হঠাৎ করে বন্যা ও সেখান থেকে নিম্ন এলাকাগুলোতে পানি ও বর্ষণ শুরু হয়ে যাওয়া বেশ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে অনেকে একে শিলাবৃষ্টির স্রোত বলে মনে করছেন। যেটা কিনা জমাট বাঁধা পানির টুকরো। অবশ্য এমন সময়ে মরুভূমির ভেতরে শিলাবৃষ্টি হওয়াটা যথেষ্ট অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। আর সেটা বাস্তবসম্মতও নয়। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, এত প্রচুর পরিমাণে শিলা তৈরি হওয়া ও বয়ে যাওয়ার জন্যও দরকার নির্দিষ্ট এক আবহাওয়া। যেটা কিনা পাহাড়প্রধান এলাকাগুলোতেই পাওয়া যায় বেশি। তবে মরুভূমির ভেতরে এতগুলো শিলার টুকরো কী করে এল, সেটাও বলা কঠিন। এমনিতে পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এমন শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকলেও মরুভূমিতে তা দুর্লভ। আর সেটাও এত বেশি পরিমাণে? মরুভূমি কেন, কোন শীতল স্থানের ক্ষেত্রেও আগে এমনটা শোনা যায়নি।

গত ১১ নভেম্বরে ইউটিউবে দেওয়া হয় এ নদীর বয়ে চলার ভিডিওটি। এরপরেই হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়ে এই বরফের নদীর ভিডিও পুরো বিশ্বজুড়ে। এখন অবধি কয়েক লাখ দর্শক দেখে ফেলেছেন বরফের নদীকে। ভিডিওটিতে দেখানো হয় একটি প্রবহমান বরফের নদীকে মরুভূমির ভেতর দিয়ে চলে যেতে। যার ভেতরে হাত দিয়ে বরফগুলোকে দেখাচ্ছিলেন এক পুরুষ। যাকে বেশির ভাগ দর্শক ইরাকের নাগরিক বলে ধারণা করেন। তবে নিজের কোনো রকম পরিচয়ও দেননি লোকটি।

মানুষের পরিচয় নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে তেমনি ভিডিওটি দেখে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি যে ঠিক কোন এলাকায় এমন নদী তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন রুব আল খালিতে (শূন্য নদী) অর্থাৎ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মরুভূমিতে এমনটা ঘটেছে। অন্যদিক যারা এ ভিডিওটি দেখেছেন তাদের বেশির ভাগেরই ধারণা ভিডিওটি ইরাকেরই কোনো এক মরুভূমির। যদিও ইরাকের আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম। সেখানে শীতকালের দৈর্ঘ্যও খুব একটা বড় নয়। সব মিলিয়ে ইরাকের অবহাওয়া নিয়ে অবহাওয়াবিদদের ধ্যান-ধারণাও পাল্টে দিয়েছে এ নদী। যদি এটা ইরাকের সংক্ষিপ্ত শীতকালের সময়ও হতো তাতেও হয়তো নদীটি সৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণটি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যেত।

তাও যেহেতু নয়, তাই এখনো বিজ্ঞানসম্মত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই অনেকে একে মরুভূমির প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার ভেতরে বসবাসরত মানুষের জন্য ঈশ্বরের পাঠানো উপহার বলে মনে করছেন। অনেকে মনে করছেন প্রকৃতির অন্যান্য রহস্যময় খেলার ভেতরে এটিও একটি খেলা।

দেখুন : মরুভূমির বুক চিরে বয়ে চলা নদী






মন্তব্য চালু নেই