মেইন ম্যেনু

‘মশাল’ যাচ্ছে ইনুর হাতে!

সম্প্রতি বিভক্ত হওয়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের দলীয় প্রতীক ‘মশাল’ হাসানুল হক ইনুর হাতেই যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আভাস পাওয়া গেছে। জাসদের দুই অংশের শুনানি গ্রহণের পর মশালের বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত দেয়া হতে পারে।

জাসদের শুনানির রায়ের নথিপত্রে ইতোমধ্যে তিন জন নির্বাচন কমিশনার স্বাক্ষর করেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিলে হাসানুল হক ইনু সভাপতি ও শিরীন আখতার সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তাদের পক্ষে তিন জন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি মিলেছে। জাসদের অপর অংশ মঈনুদ্দীন খান বাদল নেতৃত্বাধীন শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের কমিটি গঠনতন্ত্র মেনে হয়নি বলে মনে করছে একাধিক নির্বাচন কমিশনার।

গত ১২ মার্চ জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা নিয়ে দুই ভাগ হয় জাসদ। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারের কমিটির পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল, শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের আলাদা কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বিভক্তি চূড়ান্ত হয়।

দুই পক্ষই নিজেদের ‘মূল জাসদ’ দাবি করে দলীয় প্রতীক মশালের দাবি নিয়ে ইসির দ্বারস্থ হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল আলাদাভাবে দুই পক্ষের শুনানি করে ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় দফায় কোনো ইউপিতে উভয়পক্ষের প্রার্থী নেই ফলে কোনো জটিলতা ছিলো না। তবে চতুর্থ ধাপে এই জটিলতা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে চতুর্থ ধাপের প্রতীক বরাদ্দের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার জাসদের প্রতীক কার হাতে যাচ্ছে এ সিদ্ধান্ত দিতে পারে কমিশন।

জাসদের শুনানি রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ গঠনতন্ত্র অনুসারে ইনু-শিরীন কমিটি গঠিত হওয়া জাসদের দলীয় প্রতীক ‘মশাল’ তাদের পক্ষে দেয়ার মত দিয়েছি বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘জাসদের বিষয়ে আমি আমার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দিয়ে দিয়েছি। গত ১২ মার্চ জাসদের কাউন্সিলে সভাপতি পদ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি। সে সময় সবার সমর্থনেই হাসানুল হক ইনু সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র মেনে ভোটাভুটির মাধ্যমে ইনু-শিরীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই তার অংশটিকেই মূল জাসদ ভেবে আমি এ কমিটিকে জাসদের দলীয় প্রতীক ‘মশাল’ দেয়া পক্ষে মত দিয়েছি।

তবে ইনু-শিরীন কমিটির পক্ষে নিজের মত দিলেও মশাল প্রতীক কে পাচ্ছে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানেন না বলে জানান এ কমিশনার।

আরেক নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, ‘আমি ফাইলে মতামত দিয়েছি। তিনজন নির্বাচন কমিশনার ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত আসবে।’

বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক ও সিইসি মতামত দিলে দু’পক্ষকেই চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে যে কোনো বিষয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুভাগে বিভক্তি এলে সিইসির মতামতের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে সিইসি যে পক্ষে মত দেন তাতে সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।

এদিকে, নিজেদের মূল জাসদ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের শুনানির সিদ্ধান্ত যদি তাদের পক্ষে না আসে তাহলে আদালতে যাওয়া ইঙ্গিত দিয়েছে বিভক্ত জাসদের একাংশের কার্যকরি সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল।

তিনি বলেন, ‘ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে আমরা আদালতে যাবো কিনা। এক্ষেত্রে দলের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

‘আম’ নিয়ে শুনানি ১৮ এপ্রিল

এদিকে, ‘আম’ প্রতীকের দাবিদার ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির দু’পক্ষতে ১৮ এপ্রিল শুনানিতে ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। এনপিপির দুই অংশ শওকত হোসেন নিলু ও ফরিদুজ্জামান ফরহাদের কাছে বুধবার চিঠি পাঠিয়েছেন ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা। বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই