মেইন ম্যেনু

মহাকাশে ‘ল্যাম্পপোস্ট’! জ্বলছে কীভাবে? কেনই-বা জ্বলছে?

মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা। ১৬ বছর ধরে মহাকাশে রহস্যজনক একটি আলোর খোঁজ চলছিল। অবশেষে তা আবিষ্কার করতে পেরেছেন বলে দাবি করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ মহাকাশের এই আলো নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। এই আলোক শিখা অনেকটা শীতের ভোরে ল্যাম্পপোস্টের আলোর মতো দেখতে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের পর বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এক নজরে জেনে নেওয়া যাক মহাকাশের এই ‘ল্যামপোস্ট’ আসলে কী?

মহাকাশে ‘ল্যাম্পপোস্ট’ কী ভাবে জ্বলছে? হাইড্রোজেন গ্যাসের ঘন মেঘের ঠিক মাঝখানে রয়েছে দু’টি বিশাল গ্যালাক্সি। এই গ্যালাক্সির ভিতর জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন তারা, সৌরমণ্ডল। গ্যালাক্সির ভিতর তৈরি হতে থাকা তারার ভিতর থেকে অতিবেগুনি রশ্মি বের হতে থাকে। এই রশ্মি হাইড্রোজেন গ্যাসের চাদরে পড়ে এদিক ওদিক প্রতিফলিত হয়। সেই আলোকেই ল্যাম্পপোস্টের আলো বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশের এই ‘ল্যাম্পপোস্ট’ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য জানা গিয়েছে। প্রথমত, গভীর অন্ধকার মহাকাশের ভিতর থেতে যে আলোর রশ্মি চোখে পড়ছে, সেখানে দাউ দাউ করে জ্বলছে হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রচণ্ড ঘন মেঘ।

লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি বর্গ মাইল জুড়ে হাইড্রোজেন গ্যাসের ওই মেঘ রয়েছে।

তবে আমাদের সৌরমণ্ডল থেকে হাইড্রোজেন গ্যাসের চাদর রয়েছে অনেক দূরে। সেখানকার আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লাগবে সাড়ে ১১০০ কোটি বছর।

এই ব্রহ্মাণ্ড জন্মানোর আগে বিগ ব্যাং বা মহা বিস্ফোরণ ঘটনাটি ঘটে ছিল ১৩৭০ কোটি বছর আগে। তার ঠিক ২০০/২২০ কোটি বছর পরই তৈরি হয় ওই হাইড্রোজেন গ্যাসের ঘন মেঘ।

হাইড্রোজেন গ্যাসের ঘন মেঘ থেকে যে আলোক শিখা বেরিয়ে আসছে অনেকটা শীতকালে ভোরের ঘন কুয়াশায় যেমন ল্যামপোস্টে আলোকে দেখতে লাগে।

মহাকাশের অত দূরে বিশাল এলাকা জুড়ে যে আলো জ্বলছে, সেটা আসলে কী? কেনই বা এই আলো জ্বলছে? ১৬ বছর ধরে এর কোনও সদুত্তর খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা।

তবে সাম্প্রতিক এই আলোর আবিষ্কারের পর মহাকাশ গবেষণায় অনেক রহস্য উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।






মন্তব্য চালু নেই