মেইন ম্যেনু

মহাখালীতে গাড়ির জন্য হাহাকার

‘ভোর ৫টা থেকে অপেক্ষা। কখন গাড়ি আসবে। কখন বাড়ি পৌঁছাব।’ বলছিলেন এক যাত্রী। কিন্তু পর্যাপ্ত গাড়ি নেই।

ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শত শত নারী-পুরুষ। গাড়ির জন্য অপেক্ষা। অপেক্ষার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তারা। পরিবহণ সংকটে ভোর থেকেই আটকা পড়েছে ঈদে ঘরমুখো সাধারণ যাত্রীরা। গাড়ির জন্য চলছে যাত্রীদের হাহাকার। কিন্তু কোনো সমাধান নেই।

শুক্রবার দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী পরিবহণের চিত্র এটি। টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, টার্মিনালের বাইরে এবং ভেতরে ঘরমুখো শত শত যাত্রী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর, ব্রাহ্মণববাড়িয়া, ভৈরবসহ বিভিন্ন রুটের গাড়ির জন্য। একই অবস্থা টার্মিনালের ভেতরে। রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট রুটের শত শত যাত্রী টার্মিনালের ভেতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছে। কিন্তু গাড়ি নেই। গাড়ির কোনো ব্যবস্থাও নেই।

যাত্রীদের চাপ সামলাতে না পারায় কয়েকটি কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রুটের কিছু কিছু গাড়ি এলেও কাউন্টার বন্ধ রেখে টিকিট বিক্রি করে যাত্রী পরিবহণ করছে তারা। তবে এ-ও প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

বাস টার্মিনালে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ময়মনিংসহ রুটে। এনা পরিবহণের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। গাড়ি সংকটের কারণে টিকিট দেওয়া হচ্ছে কম। একই অবস্থা কিশোরগঞ্জের জলসিঁড়ি পরিবহণের লাইনে। এই দুটি পরিবহণের গাড়ি আগের চেয়ে কমে গেছে। ঘণ্টায়ও একটি গাড়ি ছাড়তে হিমশিম খাচ্ছে তারা। এ ছাড়া নরসিংদী, ভৈরব, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ এই টার্মিনাল থেকে যেসব রুটে গাড়ি ছেড়ে যায়, সেসব রুটে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবহণ সংকটের কারণে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়লেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি যাওয়ার জন্য সেহেরি খেয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে আসেন মরিয়ম বেগম। সঙ্গে ছেলেমেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাদের টার্মিনালে বসিয়ে রেখে টিকিটের জন্য লাইন দাঁড়িয়েছেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর সোয়া ১টায় পর্যন্ত টিকিট নিতে পারেনি মরিময় বেগম। কতগুলো গাড়ি ছাড়া সম্ভব হবে, তা বিবেচনায় রেখে টিকিট ছাড়ছে এনা পরিবহণ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের তুলনায় বাস নেই। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার, গাজীপুর ভাওয়াল থেকে ভালুকা পর্যন্ত রাত থেকে পথে পথে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়ি আর ফিরে আসতে দেরী হচ্ছে। এ কারণে মহাখালী বাস টার্মিনালে গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করছেন বাস মালিকরা। যানজটের কারণে সকাল থেকে যেসব গাড়ি ছেড়ে গেছে, সেসব গাড়ি এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তারা। বাস মালিকরা জানান, হাইওয়ে রুটে যানজট দ্রুত নিরসন না হলে গাড়ি সংকট অব্যাহত থাকবে। যাত্রীরাও বাড়ি ফিরতে ভোগান্তির শিকার হবেন।

তবে যাত্রীদের কথা চিন্তা করে বিআরটিসি মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকে পাঁচটি গাড়ি পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাখালী বাস টার্মিনাল ভিজিলেন্স টিমের প্রতিনিধি ও বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. হান্নান। তিনি বলেন, ‘যানজটের কারণে গাড়ি যেতেও দেরী হচ্ছে, আসতেও সেই একই অবস্থা। এ কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের কথা চিন্তা করে আমরা বিআরটিসিকে গাড়ি পাঠাতে বলেছি। এ পর্যন্ত পাঁচটি গাড়ি এসেছে। চারটি এই টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে গেছে। একটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে যেতে পারেনি।’

আরো বাস নিয়ে আসার জন্য বিআরটিসির কন্ট্রোল রুমে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান মো. হান্নান।






মন্তব্য চালু নেই