মেইন ম্যেনু

মাকে হত্যা করে পুঁতে রাখল ছেলে

মা শব্দটিকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর। আর মমতায় মায়ের তুলনা আর কে হতে পারে? কিন্তু এই মাকেই হত্যা করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাঁকুড়া শহরের পাঁচবাগা এলাকার বিশ্বনাথ নামে এক পাষণ্ড ছেলে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, পুলিশের জেরার মুখে বিশ্বনাথ স্বীকার করে, মাকে সেই খুন করেছে। বাড়ির আঙিনায় পোঁতা আছে দেহ!

বাড়ির ভিতরে একটি খাটিয়ায় শুয়ে শুয়ে কাঁদতেন পঙ্গু বৃদ্ধা মণি কুম্ভকার (৭০)। প্রতিদিন সেই কান্নার শব্দ শুনতে পেত প্রতিবেশীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা কোনো শব্দ শুনতে না পেলে সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ বিশ্বনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসে।

নিহতের ছেলে বিশ্বনাথকে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানায়, অনেক আগে থেকেই মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে বিশ্বনাথ। বছরখানেক আগেও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সে। এ ছাড়া মাসখানেক আগে মাকে কোলে তুলে ছুড়ে দিয়েছিল বিশ্বনাথ। পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙে যায় ওই বৃদ্ধার। তাতেও রাগ কমেনি ছেলে। মায়ের দু’টি হাতও মুচড়ে ভেঙে দেয়। তার পর থেকেই শয্যাশায়ী ছিলেন মনি।

খবরে বলা হয়, পেশায় দিনমজুর বিশ্বনাথ কাজে বেরিয়ে পড়ত। সারাদিন না খেয়ে থাকতেন ওই বৃদ্ধা। রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পরে মায়ের মুখে এক টুকরো পাউরুটি দেওয়া হতো। সেটাই সারাদিনের খাওয়া ছিল বৃদ্ধার।

বিশ্বনাথের সৎ ভাই নিমাই কুম্ভকার বলেন, ‘ওর ছায়াকেও ভয় পেত মা। খুবই বদরাগি ছেলে। তাই আমরা কেউই সাহস পেতাম না প্রতিবাদ করার।’

পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায় থানায়। জেরার মুখে এক পর্যায়ে সে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তাকে ফের বাড়িতে নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট বিমলাপ্রসাদ সিংহবাবুকে সঙ্গে নিয়ে আসেন জেলা পুলিশের ডিএসপি (প্রশাসন) আনন্দ সরকার, ডিএসপি (আইনশৃঙ্খলা) বাপ্পাদিত্য ঘোষ, বাঁকুড়া সদর থানার আইসি রাজর্ষি দত্ত-সহ পুলিশ কর্মকর্তারা। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই মায়ের দেহ পুঁতে ফেলা জায়গা চিহ্নিত করে বিশ্বনাথ। অন্তত পাঁচ ফুট গর্ত খোঁড়ার পরে বেরিয়ে আসে মণিদেবীর দেহ।

তবে ওই সময় পুলিশের কাছে সে বলতে থাকে, ‘আমি খুন করিনি। মা নিজেই মারা গিয়েছে।’

বিশ্বনাথ বলেন, ‘যতই নিষেধ করি মা সেই এদিক ওদিক চলে যেত। তাই নিয়েই আমার সঙ্গে ঝগড়া করত।’

রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁকুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই