মেইন ম্যেনু

মাকে ‘হত‌্যার পর’ ছেলের আত্মহত‌্যার চেষ্টা

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক তরুণ তার মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহতের নাম কুমকুম চৌধুরী (৪৫)।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন সেলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুমকুমের লাশ উদ্ধার এবং ছেলে সুমির চৌধুরীকে (২০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুমিরের বাবার নাম সুখময় চৌধুরী। তিনি আয়কর আইনজীবী হিসেবে ঢাকায় কর্মরত। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি।

গোসাইলডাঙ্গায় সরকার টাওয়ার নামে একটি ভবনে সুমিত তার মাকে কুপিয়ে গলা কেটে ফেলে। এরপর সে নিজেও একই দা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

ওই ভবনের তৃতীয় কুমকুম চৌধুরী তার বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী (২৪) এবং ছোট ছেলে সুমির চৌধুরী বসবাস করতেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী কুমকুম চৌধুরী নয় মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। বড় ছেলে হাজী মুহাম্মদ মোহসিন কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

সুমির এবার ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন তিনি। পুনর্নিরীক্ষণে এক বিষয়ে পাস দেখালেও অপর দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়।

হাসপাতালে বড় ভাই সোমনাথ চৌধুরী জানান, বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি বলেন, অকৃতকার্য হওয়ায় ভাইকে বকাঝকা করে তিনি বেলা ১১টায় কলেজে চলে যান।

বেলা একটায় সোমনাথ বাসায় ফিরে দেখতে পান সুমিরের সারা গা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তাদের মা বিছানায় রক্তাক্ত মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন এক প্রতিবেশীর সহায়তায় গুরুতর আহত ভাইকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদ কামাল বলেন, নিহতের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। হামলাকারী সুমির গলায়ও আঘাত রয়েছে। কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমির তার মাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই