মেইন ম্যেনু

মাগুরার কৃষকদের ভাগ্য বদলাবে আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার ৩টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষক-কৃষাণীদের হাতে কলমে চাষাবাদ সম্পর্কে শিক্ষাদানের জন্য আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল (এন্টিগ্রেটেড ফার্ম ম্যানেজমেন্ট ক্রপ কৃষক মাঠ স্কুল) গঠন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই ‘আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল’ পরিচালনা করছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে ৩টি উপজেলায় এ স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় ২০১৬ সালের মে মাস থেকে ৫টি স্কুলে কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া একই বছরের ১৭ই এপ্রিল মহম্মদপুর উপজেলা ৬টি ও ১৯ এপ্রিল থেকে শালিখা উপজেলায় ৫টি মোট ১৬টি স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়।

বুধবার সকাল ১০টায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া আইএফএমসি স্কুলে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক-কৃষাণীরা ক্লাশ করছেন। এসএপিপিও জাহিদুল ইসলাম তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করছেন। সেখানে ২৫ জন কৃষক-কৃষাণী মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, শ্রীপুর উপজেলায় মোট ৫টি আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া ও সারঙ্গদিয়া, সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা ও সোনাতুন্দি এবং শ্রীকোল ইউনিয়নের ছোনগাছা গ্রামে আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুলে কৃষক-কৃষাণীদের হাতে কলমে শিক্ষাদান করা হয়ে থাকে। প্রতি স্কুলের অধিনে ২৫টি পরিবারের পুরুষ ও মহিলা সদস্য এ স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। উপজেলার ৫টি স্কুলের মধ্যে ২টি স্কুলে ৪৭টি সেশন ও ৩ টিতে ৩২টি সেশনে প্রতিদিন ৩ ঘন্টা করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। পুরুষ সদস্যদের ধান, পাট, মৎস্য ও সবজি বিষয়ে এবং মহিলাদের ছাগল পালন, হাঁস মুরগী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতি কৃষক-কৃষাণীকে প্রতি ক্লাশের জন্য ৭০ টাকা হারে যাতায়াত ভাড়া প্রদানসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়। প্রতি সপ্তাহে ২ টি করে ক্লাশ হয়।

এসব স্কুলগুলো পরিচালনার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষিত ও মেধাবী কৃষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে মনিটরিং কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, উপজেলা কৃষি অফিসার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ট্যাগ ও কৃষকদের মধ্য থেকে অধিক শিক্ষিত দু’জনকে সহায়তাকারি ফার্মারস্ ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক, শহীদ শেখ ও কৃষাণী বন্যা বেগম জানান, এই স্কুলে ক্লাশ করে তারা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। আগে হাতের আন্দাজে জমিতে সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করতেন, এখন তারা পরিমাণ মত সার কীটনাশক ব্যবহার করে আগের চেয়ে বেশি ফসল ফলাচ্ছেন। তাছাড়া কোন সময়ে, কোন মাটিতে, কোন ফসলের চাষ করলে অধিক লাভবান হওয়া যায় তা তারা জানতে পারছেন। এদিকে বাড়িতে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল পালন বিষয়েও তারা নিয়ম-কানুন জানতে পারছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, স্কুলগুলোতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদের যাবতীয় বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা সাশ্রয়ী খরচে চাষাবাদ করে অধিক লাভবান হতে পারছেন।






মন্তব্য চালু নেই