মেইন ম্যেনু

মাথায় জোর পূর্বক সিঁদুর দিয়ে হিন্দু ধর্মে রুপান্তরিত করার চেষ্টা!

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ) থেকে: নওগাঁর সাপাহারে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মুশলিম সম্প্রদায়ের রশিদা বেগম (২৮) নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলার মাথায় জোর পূর্বক সিঁদুর দিয়ে হিন্দু ধর্মে রুপান্তরিত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মৃত: হরিপদের ছেলে শ্রী তাপস পাল (৪৫) নামের ট্রাক ড্রাইভারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রশিদা বেগম।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ট্রাক ড্রাইভার তাপস মুশলিম হয়ে রশিদ কে বিবাহ করে সুখ শান্তিতে রাখবে দীর্ঘদিন ধরে এমন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। এমন অপপ্রচারে রশিদার স্বামী তাকে ডিভোর্স করে। পরবর্তীতে তাপস ও রশিদার মাঝে প্রেমের সম্পর্ক হয়। তাপস পাল দীর্ঘদিন থেকেই রশিদাকে নিজ স্ত্রীর মত ব্যবহার করে আসছিল। একপর্যায়ে রশিদা গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে তাপস বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। পরবর্তীতে মুশলিম হয়ে বিবাহ করার প্রলোভন দিয়ে নিয়মিত ধর্ষন করতে থাকে।

পরে তাপস পাল বিভিন্ন ভাবে রশিদার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং রশিদাকে বলে সে তাকে আর বিবাহ করিবেনা। এ বিষয়ে রশিদা বাদী হয়ে নওগাঁ মোকাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩ এর) ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। মামলা করার পরে তাপস ক্ষিপ্ত হয়ে রশিদার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড কেড়ে নেয় বলেও অভিযোগ করেন রশিদা।

ঘটনারদিন গত ২১ মার্চ রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নিশ্চিন্তপুর মোড়ে তাপস পালের কাছ থেকে ওই দুটি সিম ফেরত চাওয়ার সাথে সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে রশিদাকে এলোপাতাড়ীভাবে কিল, ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাই সুমন ও জীবন পালকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে এসে রশিদা কে তাপসের বাড়িতে জোরপূর্বক নিয়ে যেয়ে আটকে রাখে। পরে আদালত থেকে মামলা উঠে নিতে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী দিতে থাকে।

একপর্যায়ে তাপস পাল ও তার ছোট ভাই সুমন জোর পূর্বক রশিদার মাথায় সিঁদুর দিয়ে হিন্দু ধর্মে রুপান্তরিত করার চেষ্টা করলে রশিদা বাধা প্রদান করে। ওইদিন সন্ধায় স্থানীয়রা রশিদাকে তাপসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। রাতেই সাপাহার সরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে রশিদা।

এ ঘটনার পরেরদিন রশিদা বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। একটি প্রভাবশালী মহল থানা থেকে অভিযোগ উঠে নিতে রশিদাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে রশিদা ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় থানা সহ বিভিন্ন লোকজনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই