মেইন ম্যেনু

মাথায় হাত মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের

চামড়া বিক্রির সবচেয়ে বড় হাট রাজধানীর পোস্তায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়াভর্তি ট্রাক ঢুকছে শত শত। সেই সঙ্গে আছে রিকশা, ভ্যান, টেম্পু, পিক-আপ ভরা চামড়া। পলাশীর মোড় থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির হয়ে পোস্তা পর্যন্ত চামড়াবাহী যানবাহনের ভিড় লেগেছে। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন ট্যানারি ও আড়তদারদের অস্থায়ী ক্রয়কেন্দ্রে চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে, হাটে চামড়ার দাম কম বলে লোকসানের মুখে পড়ছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা।

পোস্তায় বড় চামড়া দেড় হাজার টাকা ও ছোট চামড়া ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় কিনছেন আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা। তারা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দর অনুযায়ী চামড়ার দাম এর বেশি হয় না। এ ছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দর না জেনে বেশি দামে চামড়া কিনে আনছেন বলে অনেকে লোকশানে পড়ছেন।

যারা পোস্তায় চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন, এমন স্থায়ী ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে গড়ে ১৬০০ টাকা করে চামড়া কিনে বিক্রি করতে এসেছেন তারা। পোস্তায় এসে দাম না ওঠায় তাদের মাথায় হাত।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কিছু করার নেই। ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া দরের বেশি তারা চামড়া কিনবেন কী করে। তা ছাড়া ট্যানারি মালিকরা গতবারের টাকা ছাড় না করায় তাদের হাতেও বেশি টাকা নেই।

পোস্তা বাজারের চামড়ার আড়তদার শাকিল জানান, বেলা তিনটার পর থেকে হাটে চামড়া আসা শুরু করেছে। তারা প্রতিটা চামড়া ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায় কিনছেন। এই দামে তিনটার পর থেকে তিনি চামড়া কিনেছেন প্রায় ৫০০।

পোস্তার আরেক চামড়া ক্রেতা মামুন জানান, সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকার মধ্যে চামড়া কিনছেন তারা।

চামড়া বিক্রি করতে এসে হতাশ একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে জানান, তিনি গুলশান আজিজিয়া এতিম খানার চামড়া কিনেছেন ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ৪৮টি চামড়া নিয়ে পোস্তায় এসে দেখেন ১৩০০ টাকার বেশি দাম উঠছে না।

হতাশা প্রকাশ করে এ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘চামড়া কিনলাম লাভের আশায়। কিন্তু এখন বেচতে এসে লোকসান দিতে হচ্ছে। চামড়া রাখার সুব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ১৩০০ টাকায় চামড়াগুলো বিক্রি করেন তিনি।’

পোস্তা চামড়ার হাটের বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মঞ্জুর হাসান বাজারের এ অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নাই। ট্যানারি মালিকদের সংগঠন দর বেঁধে দিয়েছে। আমরা তো এর বেশি দামে কিনে লোকসানের দায় নিতে পারি না। গতবারের টাকা এখনো ছাড় করেনি ট্যানারিগুলো। তারপরও ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘চামড়া আসছে প্রচুর। ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায় আমরা চামড়া কিনছি।’






মন্তব্য চালু নেই