মেইন ম্যেনু

মাদকাসক্ত সন্তানের কাছে নিরাপদ নয় মায়ের ইজ্জতও!

মাহমুদা আক্তার: মনুষত্বের কি অবক্ষয়! যৌবনের কি নিদারুণ অপচয়। আগামীকাল বাংলাদেশে সগৌরবে পালিত হচ্ছে মা দিবস। অনেকেই হয়ত মায়ের জন্য নানা ধরনের গিফট কিনবেন, কার্ড উপহার দেবেন। এই বিশেষ দিনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আমাকে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করতে হচ্ছে, এজন্য পাঠকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। হ্যাঁ, এই খবরটা তো আমি এড়িয়ে যেতে পারতাম, যেভাবে আমরা গোপন করি আরো অনেক খবর অনেক ঘটনা। কিন্তু আমি বা আমরা এটি প্রকাশ না করলেই কি এ ধরনের পৈশাচিকতা থেমে থাকবে! অবশ্যই থাকবে না। বরং আজ গোটা বিশ্ব জুড়ে মনুষত্বের যে অধঃপতন শুরু হয়েছে তাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির সম্ভবনাই অধিক। তাই নিজ দায়িত্বে আমি এই সংবাদটি প্রকাশ করলাম। আশা করছি এই খবরটি আরো অনেকের মধ্যে বিশেষ করে মায়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

এ ঘটনা ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের। সেখানে ৭০ বছর বয়সী এক মাকে ধর্ষণ করেছে তার মাদকাসক্ত ৪০ বছর বয়সী এক ছেলে। ওই ছেলেটি তার মাকে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতন করত। কিন্তু গত মাসে সে সীমা ছাড়িয়ে যায়। সে মাতাল অবস্থায় তার মাকে ধর্ষণ করে। এরপরও তিনি লোকলজ্জার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রাখেন। এতেই আরো সাহসী হয়ে ওঠে ওই পাষণ্ড। সে পুনরায় ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভয়ে বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন ওই মা। তখন মাদকাসক্ত ছেলেটি তার বাথরুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। এরপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় তার মা। মেয়ের কাছে গিয়ে সব খুলে বলেন। এরপর মা মেয়ে দুজন মিলে গত সপ্তাহে থানায় যান। তিনি পুলিশের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,‘সে আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেছে। আমি তাকে বলেছি, [দেখ, তুই আমার ছেলে, আমি তোকে জন্ম দিয়েছি। আমার সঙ্গে এরকম আচরণ করিস না।] কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। এই অপরাধের জন্য তাকে সাজা পেতে হবে। ইশ্বর তাকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না।’

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ধৈর্যশীলা মায়ের কাছে আমার সবিনয় নিবেদন,‘আপনি আরো আগে কেন এর প্রতিবাদ করেননি, মা?’ আপনি যদি সময়মত সজাগ হতেন, ছেলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতেন তাহলে হয়ত আজকে আপনাকে এই দিনটি দেখতে হত না।’

বাংলাদেশের পরিবারগুলো বিশেষ করে মায়েরা মাদকাসক্ত সন্তানদের নিয়ে নানা সমস্যার মোকাবেলা করছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন এক মাকে জানি যিনি তার মাদকাসক্ত ছেলে রুবেলের (ছদ্মনাম) ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতেও সাহস করেন না। তিনি বাড়িতে না থাকলে ওই ছেলে কি না কি করে বসে। ঘর থেকে কি নিয়ে চলে যায়! এত পাহারার মধ্যেও তার অপকর্ম থেমে নেই। এখন তো ঘরে বসেই নেশা করে সে। ছেলে বাইরে গেলেও আতঙ্কে থাকেন তিনি। তার ওই ছেলের বয়ম চল্লিশ এবং দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছে সে। কিন্তু নেশায় পরে তার সেই ডিগ্রি কোনো কাজে আসেনি। ছেলেকে ভালো করার জন্য ওই মা তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে মেটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসাও করিয়েছেছেন। ছেলেকে সুস্থ করতে তাকে বিয়ে পর্যন্ত করিয়েছিলেন। কিন্তু সে বৌ তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন সে আবার বিয়ে করার জন্য তার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
oisi
বাংলাদেশে এরকম মাদকাসক্ত একজন নয়, লক্ষ লক্ষ। এরকম মাদকের নেশায় পড়েই রাজধানী ঢাকায় নিজ বাড়িতে বাবা-মাকে খুন করেছিল ঐশী। এ অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু একজন ঐশীর মৃত্যুদণ্ড দিলেই কি বন্ধ হয়ে যাবে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম! এর আগে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আমাদের প্রিয় অভিনেতা এ টি এম শাসুজ্জামান। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে এ ধরনের ঘটনার জের ধরেই ছোট ছেলে ও মাদকাসক্ত কুশলের হাতে খুন হন তার বড় ছেলে এটিএম কামরুজ্জামান কবির (৩৭)।

বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কত তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। ইউএনডিপি’র দেয়া ১৯৯৯ সালের এক তথ্যে জানা যায়, সারা পৃথিবীতে মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ২ ভাগ কিন্তু বাংলাদেশে এর হার প্রায় দ্বিগুন তথা ৩ দশমিক ৮ ভাগ। এ হিসাবে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা এ সংখ্যা কম-বেশি ৫০ লাখ ধরেই তৎসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়, মাদক গ্রহনকারীদের ১৫ শতাংশের বয়স ২০-এর নিচে, ৬৬ শতাংশ ২০-৩০ বছরের মধ্যে, ১৬ শতাংশ ৩০-৪০ বছর এবং ৪ শতাংশ ৪০ থেকে তদূর্ধ্ব বয়সের। এসব মাদকাসক্তদের কাছে নিরাপদ নয় তাদের স্বজনরা, এমনকি মায়েরাও। ছত্তিশগড়ের এ ঘটনা কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দেয়। বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই