মেইন ম্যেনু

মাদরাসায় না যাওয়ায় শিশুকে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

মাদরাসায় না যাওয়ায় যশোরের মনিরামপুরের সুন্দলপুর গ্রামে মাতৃহারা আবদুর রহিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত রহিমকে বেঁধে রাখা হয়।

পরে প্রতিবেশিরা টের পেয়ে নানীর কাছ থেকে চাবি কেড়ে নিয়ে শিকল ও দঁড়ি খুলে দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।

রহিম খুলনা ফুলতলা বেজেরডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে। মাত্র ৭ মাস বয়সে মাকে হারায় আবদুর রহিম। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে আর বাবার কাছে দেয়নি নানা শামছুর গাজী ও নানী নূরজাহান। এরপর সুন্দরপুর গ্রামে নানার বাড়িতেই থাকে। সে সুন্দরপুর মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রফিকুল ইসলামের কাছে ফোন করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এসময় মেম্বারের সঙ্গে ছিল ভুক্তভোগী শিশু রহিম। মুঠোফোনটি শিশুটির কাছে দিয়ে ঘটনার বর্ণণা শুনতে বলেন। এসময় শিশু আবদুর রহিম জানায়, সে মাদরাসায় না যাওয়ায় তার নানী ও মামী তাকে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন।

রহিমের প্রতিবেশি নানী খাদিজা জানান, মাত্র ৭ মাস বয়সে মাকে হারায় আবদুর রহিম। রহিম খুলনা ফুলতলা বেজেরডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে আর বাবার কাছে দেয়নি নানা শামছুর গাজী ও নানী নূরজাহান। এরপর নানার বাড়িতেই তার ঠাঁই হয়। রহিমের নির্যাতনের খবর পেয়ে পিতা হাফিজুর রহমান ছুটে আসেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চাইলেও তাকে দেয়া হয়নি। নানার বাড়িতে মামী পলি খাতুনের প্ররোচণায় নানী নূরজাহান প্রায় রহিমকে শারীরিক নির্যাতন করতো। এমনকি ঠিক মত খেতেও দেয়া হয় না।

তবে অভিযোগে বিষয়ে রহিমের নানী নূরজাহান বলেন, ‘একে তো মাদরাসায় যায়নি-তার ওপর বাড়িতে তাকে একা রেখে পাওয়া যাবে না বিধায় রহিমকে শিকল দিয়ে বেঁধে কারেন্ট বিল দিতে গিয়ে ছিলাম’। রহিমের মামী পলি খাতুন বলেন, শাশুড়ির নির্দেশে রহিমকে বেঁধে রেখেছিলাম। প্রতিবেশীরা জানায় রহিমের নানী ও মামী নিষ্ঠুর প্রকৃতির-এমন ঘটনা প্রায় ঘটিয়ে থাকে তারা।

এদিকে এলাকাবাসী মনিরামপুর থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে যান এসআই তপন কুমার। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি গিয়ে বাঁধ অবস্থায় পায়নি। তবে শিশুটির কাছে জিজ্ঞাসা করলে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে।






মন্তব্য চালু নেই