মেইন ম্যেনু

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলল ৬ জন

আলবদর নেতা ও জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির মধ্য দিয়ে ৬ষ্ঠ ফাঁসি কার্যকর করা হলো। এর আগে আপিল বিভাগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাতটি রায়ের মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হওয়ার পর দুই পক্ষের করা রিভিউ আবেদন এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কাযকর হয় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর। এছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইনব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীর সাজা কার্যকর করা হলো। মীর কাসেমের অত্যাচারের মাত্রা এতই জঘন্য ছিল যে তাকে এলাকায় বাঙালি খান হিসেবে চিনতো। সাক্ষীরা তাদের এত বছরের যন্ত্রণা সঙ্গে নিয়ে বিচারের অপেক্ষা করছিল। ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে একদিকে দায়মোচন ঘটছে, আরেকদিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। প্রসিকিউশনের একজন হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট।’

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ব্রহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন, জামায়াত নেতা রংপুরের এটিএম আজহারুল ইসলাম, পাবনার আবদুস সুবহান, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা হবিগঞ্জের সৈয়দ মুহম্মদ কায়সার, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজ, খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের।

এ ছাড়া মানবতারোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে ১০ জনের ফাঁসিসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হলেও তারা বিচারের আগ থেকেই পলাতক। তারা হলেন, জামায়াত নেতা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, আল বদর নেতা চৌধুরী মাইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান, নগরকান্দার বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকার, পিরোজপুরের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, কিশোরগঞ্জের রাজাকার সৈয়দ মো. হাসান আলী, কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের ক্যাপ্টেন (অব.) নাসিরউদ্দিন, গাজী আবদুল মান্নান, হাফিজউদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান জামায়াতের নেতা খুলনায় রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফ।






মন্তব্য চালু নেই