মেইন ম্যেনু

মানব প্রজাতির ক্ষতি করছে ওয়াইফাই

মানুষ স্বভাবতই অভ্যাসের দাস। বস্তুকেন্দ্রিক কোনো কিছুতে নূণ্যতম সুবিধা পেলে সেই সুবিধার নেতিবাচক দিক বিবেচনা না করেই মানুষ সেই সুবিধা গ্রহন করতে থাকে। অথচ পাছে এই ভাবনা থাকে না যে, আজকের এই সুবিধা হয়তো অনতিবিলম্বেই তার এবং এই গোটা বিশ্বের মানুষের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে। যেমন ধরা যাকে ইন্টারনেট সেবা ওয়াইফাই’র কথাই। অনেক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াইফাইয়ের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে বিস্তর কথা বলে যাচ্ছেন কিন্তু মানুষ একটু সুবিধার জন্য ওই কথাগুলো শুনেও না শোনার মতো আছে।

চিকিৎসাশাস্ত্রের বিভিন্ন জার্নাল মারফত জানা যায়, গত বছরগুলোতে গোটা বিশ্বেই ব্রেন টিউমার, লিউকোমিয়া এবং দুর্বল স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী যতই ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইলেকট্রেস্মগ ছড়াচ্ছে ততই মানুষের মধ্যে এধরনের রোগের প্রবনতা বাড়ছে। আনাদৌ নামের একটি এজেন্সিকে একদল বিজ্ঞানী জানান, বিজ্ঞানী বা গবেষক সমাজে এটা স্বীকৃতি যে মোবাইল, ওয়্যারলেস ল্যান, বেসি সেল এবং অন্যান্য তারবিহীন যন্ত্র থেকে যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (তরিৎ চৌম্বকীয় শক্তি) নির্গত হয় তার মানবশরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে শুধু তাই নয় শরীরের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে পানির ভারসাম্যতাও নষ্ট করে।

স্টকহলমের ক্যারোলিন্সকা ইনিস্টিটিউটের নিউরোসায়ান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওলে জনসন এবিষয়ে বলেন, মানব প্রজাতির উপর করা পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি প্রয়োগ হলো সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আমরা ইতোমধ্যেই ইলেকট্রেস্মগ দ্বারা আক্রান্ত, আর একারণে মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগের মাত্রাও বেড়ে গেছে। বিশ্বের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তারবিহীন প্রযুক্তিও ছড়িয়ে যাচ্ছে, একে বন্ধ করার উপায় নেই।

wifi1

বিশেষজ্ঞদের মতে পৃথিবীর রাজনীতিবিদদের এখনই এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে বের করা দরকার। কারণ এখনই যে পরিমান মানুষ এবং প্রকৃতি উভয়েই তারবিহীন প্রযুক্তির কারণে আক্রান্ত হচ্ছে, এর হার আগামীতে আরও বাড়ার আগেই যদি সমাধান বের না করা যায় তাহলে একদিন হয়তো মহামারী আকারে মানুষকে মরতে দেখতে হতে পারে। শুধু মানুষই মারা যাচ্ছে বা যাবে তা নয়, বৃক্ষরাজি সরাসরি ওয়াইফাইয়ের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল, ঝিমঝিম ভাব, হতাশা, ঘুমে সমস্যা হলো ওয়াইফাই আক্রান্তদের সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এর বাইরেও অটিজম, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকের মতো খারাপ রোগও হতে পারে এর কারণে। তামাক এবং এক্সরে রশ্মির কারণে মানবদেহে কি কি সমস্যা হচ্ছে তা আমরা এই সময়েই দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ওয়াইফাই সমস্যার কারণে আগামী ২০ বছর পরে পৃথিবীতে কি ঘটতে যাচ্ছে সেটা দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষা করবে নাকি এখনই এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নেবে তা ভাবার সময় এসেছে।

নিউইয়র্কের একদল গবেষক নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের উপর ওয়াইফাইয়ের ক্ষতিকারক প্রভাব পরিমাপে জরিপ চালান। সেই জরিপে দেখা যায়, ওই অঞ্চলের গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক গাছের তুলনায় কম এবং সেখানে বসবাসরত মানুষের ত্বকে সমস্যা শুরু হয়ে যায়। এই ত্বকের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে একটা সময় মেলানিন নষ্ট হয়ে যায় এবং তখনই শরীরে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যেমনটা আমরা ইউরোপে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত অগুনতি মানুষের মধ্যে দেখতে পারি।






মন্তব্য চালু নেই