মেইন ম্যেনু

মানা হচ্ছে না যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালা

একের পর এক যৌথ-প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ করা হলেও মানা হচ্ছে না যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা। সমান সংখ্যক কলাকুশলী নিয়ে ছবি নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা কেউ করছেন না। বরং যৌথ-প্রযোজনার ছবি নির্মাতারা বলছেন ভিন্নকথা। তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছেন যৌথ প্রযোজনায় এমন কোন নীতিমালা নেই যাতে সমান সংখ্যক শিল্পী-কলাকুশলী নিতে হবে।তারা মনে করেন শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে সমানাধিকারের ভিত্তিতে নির্মিত হচ্ছে যৌথ-প্রযোজনার চলচ্চিত্র। কিন্তু সেন্সরবোর্ডের যৌথ-চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালার ৬ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবির জন্য মুখ্য শিল্পী ও কলাকুশলীর সংখ্যা যৌথ-প্রযোজকগণই নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে প্রতিদেশের কলাকুশলীর সংখ্যানুপাত সাধারণভাবে সমান রাখতে হবে। একইভাবে চিত্রায়নের লোকেশন সমানুপাতিক হারে রাখতে হবে।’

যৌথ-নীতিমালায় এমনটা থাকলেও নীতিমালা মানছেন না প্রযোজকরা।

যৌথ-প্রযোজনার নিয়ম না মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয় ২০১৪ সালে। এ বছর অনন্য মামুন পরিচালিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ ছবিটির মূল প্রযোজক ছিলেন এসকে মুভিজ। কিন্তু অনন্য মামুনের ইন্টারকাট এর সঙ্গে নামমাত্র যৌথ-প্রযোজনায় ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয় এদেশে। এ ছবিতে নায়ক-নায়িকা দুজনই ছিলেন কলকাতার।কলাকুশলীরাও ছিলেন সব কলকাতার। বাংলাদেশি শিল্পী ছিলেন মাত্র দুজন। তারা হচ্ছেন মিশা সওদাগর ও ডন।

এদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়া যৌথ-প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ শুরু করে ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’ দিয়ে। এ ছবির নায়িকা বাংলাদেশের ও নায়ক কলকাতার হলেও অন্য কলাকুশলীদের সংখ্যা সমানুপাতিক ছিলো না। জাজ এরপর নির্মাণ করেন ‘অগ্নি-২’ ও ‘আশিকী’। ‘আশিকী ছবিতেও কলাকুশলী সমান ছিলেন না। এমনকি ছবির পুরোটাই নির্মিত হয়েছে ভারতীয় ছবি হিসেবে। মাঝে মাঝে হিন্দি সংলাপও ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটি দেখে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র মনে হয়নি অনেকেরই। কিন্তু যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ্য আছে দুই দেশের যৌথ-প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ করলেও ছবিটি দেশীয় ছবি হিসেবে গণ্য হতে হবে।

এসব বিষয়কে মামুলী ব্যাপার হিসেবে গণ্য করে জাজ মাল্টিমিডিয়া অন্য হিসেব উপস্থাপন করছেন। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিমুল্লাহ খোকন বলেন, ‘আমাদের ছবিতে শিল্পী ও কলাকুশলী সমান সংখ্যকই আছে। শুধুমাত্র বড় বড় আর্টিস্টদের দিকে তাকালে হবে না ছোট ছোট আর্টিস্টের হিসাবও করতে হবে। ফাইটার থেকে শুরু করে হিসেব করলে কলাকুশলীর সংখ্যা সমান সংখ্যকই পাবেন।’

এদিকে সম্প্রতি শুটিং শেষ হয়েছে কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া ও রানা সরকার প্রযোজিত ‘ব্ল্যাক’-এর। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতেও একই অভিযোগ ওঠেছে। মানা হচ্ছে না যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালা। ছবিতে বাংলাদেশি তারকা বলতে একমাত্র বিদ্যা সিনহা মিম রয়েছেন।

যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালা মানা হচ্ছে না অভিযোগের জবাবে কামাল মুহাম্মদ কিবরিয়া বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনায় শুধু ব্যবসায়িক দিকটাই উঠে এসেছে। প্রযোজকগণ যেকোন সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারবেন। এমনটাই আসছে নতুন সিদ্ধান্তে। ছবির ব্যবসার স্বার্থে দুজন প্রযোজক যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চূড়ান্ত হবে।’

যৌথ-প্রযোজনায় সমান সংখ্যক শিল্পী থাকা না থাকায় পরিচালক প্রযোজকদের লাভ-লোকসান না হলেও এর ফলে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন শিল্পীরা। অথচ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে। শিল্পী সমিতি কেন এর বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে না জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই মিটিং করেছি। যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালা মেনেই যেন ছবি নির্মাণ করা হয় সে ব্যাপারে খুব শীঘ্রই কর্মসূচি গ্রহণ করবো। আর নীতিমালায় কোন হেরফের থাকলেও যৌথ-প্রযোজনার নীতিমালায় যেন সমান সংখ্যক শিল্পীর কথা উল্লেখ থাকে, সে আহ্বানও জানাবো।’






মন্তব্য চালু নেই