মেইন ম্যেনু

মানুষের চিড়িয়াখানা!

পৃথিবীতে তো কত রকমের চিড়িয়াখানা আছে। আমাদের বাংলাদেশের কথাই ধরুন না। এখানেও কি কম চিড়িয়াখানা আছে? কিন্তু চিড়িয়াখানা, সে যে দেশেই হোক কিংবা পরিমাণে যতগুলোই হোক সেখানে সবসময় বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, ময়ুর, বানর- এমন হাজার হাজার পশু-পাখীকে দেখেই অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু ভাবুন তো কেমন হবে যদি আপনি জানতে পারেন এমন কোন চিড়িয়াখানার কথা যেটাতে পশু কিংবা পাখী নয়, খাঁচার ভেতরে আটক অবস্থায় থাকে মানুষ? চলুন ঘুরে আসি ইতিহাসের পরতে পরতে জমে থাকা এমনই কিছু মানব চিড়িয়াখানা থেকে।

১. আমেরিকার অদ্ভূত বিজয়

১৯০৪ সালে সেইন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফেয়ারের কথা। তার কিছুদিন আগেই আমেরিকা ফিলিপাইনকে যুদ্ধে নাস্তানাবুদ করেছে। তাই যুদ্ধে জিতে যাওয়ার আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলতে এবং সবার সামনে প্রকাশ করতে ফিলিপাইনের ইগোরোট নামক একটি গোত্রকে মেলায় খাঁচার ভেতরে প্রদর্শনীর জন্য তোলে আমেরিকা ( লিস্টভার্স )। খাঁচার ভেতরে মানুষগুলোকে বাধ্য করা হয় একের পর এক কুকুর মারতে ও খেতে। মূলত, সেসময় অনেকের ধারণা ছিল যে ইগোরোটেরা কেবলই কুকুরের মাংস খায়। আর তাই সেটারই প্রদর্শন চলছিল মেলায়। বাস্তবে ইগোরোটেরা কোন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বছরে দু-একবার কুকুরের মাংস গ্রহন করত। একের পর এক কুকুর মারতে ও সেগুলোর মাংস খেতে গিয়ে বেশ অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল খাঁচার মানুষেরা। যদিও সেদিকে তখন কারোরই নজর দেওয়ার সময় ছিলনা।

২. মন্টেজুমার মানব চিড়িয়াখানা

তবে ১৯০৪ সালে আমেরিকা শুরু করলেও এর আরো অনেক আগেই মানব ইতিহাসে প্রথম মানুষের চিড়িয়াখানার উদ্ভব করেন অ্যাজটেক রাজত্বের শাসক মন্টেজুমা। সেসময় নিজের ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এই শাসক। ফলাফল হঠাত্ তার মাথায় আসলো মানব চিড়িয়াখানার কথা। না, ইউরোপ বা আমেরিকার মতন পরাজিতদের চিড়িয়াখানা নয়। এটা ছিল অদ্ভূত দেখতে, বিকলাঙ্গ ও অন্যরকম চেহারার অধিকারী মানুষের চিড়িয়াখানা। বর্তমান মেক্সিকোর কাছেই অবস্থিত ছিল মন্টেজুমার সেই চিড়িয়াখানাটি।

৩. চিড়িয়াখানার পিগমি মানব

অনুসন্ধানী স্যামুয়েল ফিলিপস ভার্নারের হাত সেবার একেবারেই খালি। টাকা প্রচন্ড দরকার। তাই নিউ ইয়র্কে আসতেই যখন একটি চিড়িয়াখানা থেকে সাথে করে নিয়ে আসা পিগমি মানব ওটা বেঙ্গাকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হল একটা মুহূর্ত আর দেরি করেননি তিনি। জীবন অবশ্য তখন পর্যন্ত খুব একটা কম দেখা হয়নি বেঙ্গার। জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করে শেষ অব্দি চিড়িয়াখানায় জায়গা হয় তার। অবশ্য পরবর্তীতে নিজের এই হতাশা ও অপমানজনক জীবনকে সহ্য করতে পারেনি আর সে। কিছুদিন পরেই পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে বেঙ্গা।






মন্তব্য চালু নেই