মেইন ম্যেনু

মানুষের মাংস ভক্ষণ করত ব্রিটিশ রাজপরিবারের শাসকরা!

ব্রিটিশ রাজপরিবার সারাবিশ্বে সকল যুগেই যেসব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খ্যাতিসম্পন্ন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অত্যন্ত জৌলুসপূর্ণ এবং বিলাসবহুল রাজকীয় খাবারদাবার ও ভোজসভা। কিন্তু সম্ভবত একটা বিষয় অনেকেরই অজানা। আর তা হল ব্রিটিশ শাসকবর্গ নরমাংসেরও স্বাধ নিয়েছিলেন। তবে সেটা আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগের ঘটনা।

২০১১ সালে ওষুধি নরমাংস ভোজন বিষয়ক প্রকাশিত একটি বইতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বইতে বলা হয়, ১৮ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কয়েকজন মানুষের শরীরের কিছু অংশ আহার করেছিলেন। বইটির লেখক ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রিচার্ড সাগ বলেন, নরমাংস খাওয়ার এই চর্চা শুধুমাত্র রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং এটা তখন সমগ্র ইউরোপের সচ্ছল পরিবারের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

ড. সাগ আরও বলেন, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় মেরী এবং তার চাচা রাজা দ্বিতীয় চার্লস উভয়েই মৃত্যুশয্যায় মানুষের মাথার খুলির কিছু অংশ খেয়েছিলেন। রানী দ্বিতীয় মেরী ১৬৯৮ সালে আর রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৮৫ সালে নরমাংসের ওষুধি গুণের কথা ভেবে তা ভক্ষণ করেছিলেন। তখন রাজপরিবারে মৃত সৈন্যদের খুলি থেকে নেয়া শৈবাল নাকের রক্তপড়া চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত। যদিও নতুন বিশ্বকে তারা বর্বর বলে আখ্যায়িত করেন কিন্তু তারাই মিশরীয় মমিচূর্ণ, মানুষের চর্বি, মাংস, হাড়, চামড়া সবই তাদের গায়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও লিখেছেন ড. সাগ তার এই বইয়ে। ডাঃ সাগের দাবি, মানুষের শরীরের মাংস, হাড় ও রক্ত ভেষজ উপাদান হিসাবে রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। নরমাংস ভক্ষণ প্রথা যদিও অনেকেই নতুন বিশ্বের একটা অভিশাপ বলে আখ্যায়িত করেন কিন্ত ইউরোপে এর বিস্তার অনেক আগেই হয়েছিল।

বইতে অভিযোগ করা হয়, রাজা দ্বিতীয় চার্লসের এই নরমাংসের বিষয়টিকে সাহিত্য এবং ইতিহাস গ্রন্থে এড়িয়ে চলা হয় সবসময়। কিন্তু এর সত্যতাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু রাজা দ্বিতীয় চার্লসই নন এই তালিকায় রাজা প্রথম চার্লস, রানী প্রথম এলিজাবেথ, তৃতীয় উইলিইয়াম, এলিওজাবেথ গ্রেই, কেন্ট, রবার্ট বয়েল, টমাস উইলিস, তৃতীয় উইলিয়াম, রানী মেরীসহ আরও কয়েকজনের নামও এসেছে।

2015_10_05_22_57_30_VZdTq2V1ox1hgiCsTJA82cPDhEFXhI_original

শিল্পীর তুলিতে রাজা প্রথম চার্লসের শিরশ্ছেদের দৃশ্য

নরমাংস ভক্ষণ প্রথার সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে ড. সাগ বলেন, যদিও এটাকে একটি মধ্যযুগীয় চিকিৎসা থেরাপি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় কিন্তু এটা আধুনিক ব্রিটেনের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক বিপ্লব পর্যন্তও বর্তমান ছিল। আঠারো শতক অর্থাৎ রানী ভিক্টোরিয়ার সময় পর্যন্ত যা বিদ্যমান। ওষুধি নরমাংসের স্বর্ণযুগের সময়টায় বেশিরভাগ মানবদেহই মিশরীয় সমাধি থেকে আনা হত। শুধু তাই নয় আঠারো শতকের দিকে সবচেয়ে বড় মৃত মানবদেহের চালানটি ইংল্যান্ডে এসেছিল আয়ারল্যান্ড থেকে। বইতে এক জায়গায় বলা হয়, রাজা প্রথম চার্লসের শিরচ্ছেদ করার সময় উপস্থিত সবাই রুমালে করে তার রক্ত সংরক্ষণ করেছিলেন এর ভেষজ গুনাগুনের কথা চিন্তা করে। এমনকি ইউরোপে যেখানে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শিরচ্ছেদ করে সেখানে এদের রক্ত মৃগীরোগিদের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে জার্মানিতে ১৮৬৫ সালে। নরমাংস ভক্ষণের বিষয়টি ১৫৫৭ সালে হ্যান স্টেইডেন নামের আরেকজন বলেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্রাজিলের টুমিনাম্বা উপজাতীদের কথা বলেছিলেন।

ড. সাগের ওই বইটির নাম ‘মামিস, ক্যানিবালস অ্যান্ড ভ্যাম্পায়ারস’ যা ২০১১ সালের ২৯ জুন প্রকাশিত হয়।






মন্তব্য চালু নেই