মেইন ম্যেনু

মান-অভিমান ভুলে বিএনপিতে ফিরছেন কর্নেল অলি ও বি. চৌধুরী

মান-অভিমান ভুলে বিএনপিতে ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একই পথ অনুসরণ করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তাদের দলটিতে একীভূত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দুই শীর্ষ নেতা নিজ নিজ দল বিলুপ্ত ঘোষণা করবেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সমবেত হবেন পুরনো দলে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বিকল্পধারা এবং এলডিপির বাইরে ২০ দলীয় জোটের আরও কয়েকটি শরিক রাজনৈতিক দল বিএনপিতে একীভূত হওয়ার জন্য ইনহাউস প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ১ সেপ্টেম্বর তাদেরও দেখা যেতে পারে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে শামিল হতে। তবে বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করায় এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিএনপিতে ফেরা সম্পর্কে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী সোমবার বলেন, ‘আমরা আগেই স্পষ্ট করে বলেছি, বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনে আবার ফিরে আসতে হবে। সব জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে শহীদ জিয়ার রাজনীতি। তা হলেই সেটা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ২০ দলীয় জোট বা নতুন কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়, এবার আমরা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী সব দল ও ব্যক্তির মধ্যে একটি আলোচনার সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কী বিএনপি, কী বিকল্পধারা আর কী এলডিপি- দলমত নির্বিশেষে আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, তারাই মূলত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও জানান, ‘আলোচনার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সবাইকে এক করার এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এ বিষয়ে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ সোমবার বলেন, বিএনপিতে যাওয়া নিয়ে আমার সঙ্গে কারও কোনো আলোচনা হয়নি। যদি এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসার কোনো প্রস্তাব পান তাহলে আসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুমাননির্ভর কোনো বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না।

এদিকে দলীয় সভাপতি বিষয়টি এভাবে এড়িয়ে গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলডিপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, কৌশলগত কারণেই ‘বিশেষ বার্তাটি’ গোপন রাখা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, পুরোটাই সত্য। বিএনপির সঙ্গে তাদের একীভূত হওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নানা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুদিন আগে এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন সময় দলের যেসব নেতা বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের সবাইকেই স্বাগত জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি প্রত্যেককে সব বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। বিশেষ করে বি. চৌধুরী এবং অলি আহমেদের মতো নেতাকে দলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটিও বিএনপি চেয়ারপারসনেরই। এজন্য তিনি দলের কয়েকজন খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীকে দায়িত্বও দিয়েছেন। তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা ইতিমধ্যে ভুল বুঝে বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন, অথবা চলে গিয়ে নিজেরা নতুন দল গঠন করেছেন, তাদের সবাইকে আবারও দলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি দাবি করেন, বি. চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ বিএনপির পুরনো নেতাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এখন শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, অচিরেই এ চেষ্টা সফল হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ঘরের ছেলে ঘরে’ ফিরিয়ে আনার নীতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ নানা সময়ে দলছুট নেতাকর্মীদের বিএনপিতে ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগ নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এছাড়াও এক-এগারোর সময়ে সংস্কারপন্থী পরিচয়ে যারা দল থেকে ছিটকে পড়েছেন, কিংবা আশাহত হয়ে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন- তাদের আবার কাছে টেনে নেয়া এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করারও উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ইতিমধ্যে তিনি একাধিকার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বড় ধরনের শো-ডাউন করবে বিএনপি। সেদিন রাজনীতিতেও নতুন এক চমক দেয়ার অপেক্ষায় দলটি। সূত্র জানায়, বিএনপিতে ফেরার পর বি. চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীকে নীতিনির্ধারণী ফোরামসহ দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সম্মানজনক স্থানে অধিষ্ঠিত করা হবে। একইভাবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ তার দলের নেতাদেরও সম্মানজনক পদ দেয়া হবে। দুই পক্ষের নেতাদের কাছেই বিএনপির পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে। বিকল্পধারা এবং এলডিপি ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের আরও কয়েকটি শরিক দলও সব কিছু গুছিয়ে বিএনপিতে যোগ দেয়ার ব্যাপারে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, এলডিপির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা দু’দফা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে বলেছেন, তাদের আহ্বান করলে তারা তাদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে ফিরে আসবেন। জবাবে তারা খালেদা জিয়ার কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত সম্মতি পান। এলডিপির এসব নেতাদের আশা, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে হয় তো জোট নেত্রী তাদের বিএনপিতে ফেরার ডাক দিতে পারেন। কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কারও কোনো লাভ হচ্ছে না। তারা মনে করেন, জাতীয়তাবাদী সব শক্তি পৃথক না থেকে ঐক্যবদ্ধ হলেই বেশি লাভ। বিকল্পধারা ও এলডিপির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, যদি সম্মানজনক হয়, অর্থাৎ এ দুই দলে যারা সাবেক সংসদ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন তাদের যদি পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং দলে কাজ করার মতো সম্মানজনক অবস্থার আশ্বাস দেয়া হয়, তাহলে তারা বিএনপিতে ফিরে আসবেন। তবে বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিকল্পধারার মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে ফেরার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো কারণে বিকল্পধারার শীর্ষ নেতৃত্বের বিএনপিতে ফিরে আসতে বিলম্ব হয়, তাহলে এসব নেতাকর্মীরা আগেভাগেই বিএনপিতে যোগ দেবেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি বানানো হয়। কিছুদিন না যেতেই দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় তার। যার রেশ ধরে এক বছরেরও কম সময়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বিদায় নেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তাকে অনুসরণ করে বিএনপি ছাড়েন তার ছেলে ও তৎকালীন সংসদ সদস্য মাহী বি. চৌধুরী এবং আরেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুদিন নীরব থাকেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। প্রায় এক বছর অপেক্ষায় থাকার পর সমমনাদের নিয়ে গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ। একইভাবে বিএনপি সরকারের শেষদিকে এসে দুর্নীতি-দুঃশাসনের অভিযোগ এনে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বিএনপির ডাকসাইটে ও প্রভাবশালী কিছু মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যকে নিয়ে তিনি গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বি. চৌধুরী এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একসঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বিকল্পধারা বাংলাদেশ একীভূত হয় এলডিপিতে। বি. চৌধুরী চেয়ারম্যান এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ কো-চেয়ারম্যান হন দলটির। যদিও তাদের এ মধুচন্দ্রিমা সুখের হয়নি। কিছু দিন না যেতেই আলাদা হয়ে যান দুই নেতা। বি. চৌধুরী তার প্রতিষ্ঠিত দল বিকল্পধারা বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে পথ চলা শুরু করেন। অন্যদিকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পথ চলতে শুরু করেন এলডিপি নিয়েই। বিএনপিবিরোধী রাজনীতিতে পথ চলতে গিয়ে তারা দু’জনেই এক সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলার পথে ফের কঠিন বাস্তবতায় সেই সখ্যতায়ও আবার চিড় ধরে। পুরনো দল বিএনপির সঙ্গে নতুন করে সখ্যতা গড়ে ওঠে তাদের। আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে যোগ দেন। বি. চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ দলীয় জোটে শরিক না হলেও তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীদের এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন।

পুনর্গঠন সাতকাহন : সংশ্লিষ্টদের মতে, এক-এগারোর তোপের মুখে পড়া বিএনপি বারবার দল পুনর্গঠনের কথা বললেও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলেও দলের সংস্কারপন্থী একটি অংশ কমিটি থেকে বাদ পড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। বাদ পড়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত না করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনও দৃশ্যত ব্যর্থ হয়। এরকম পরিস্থিতিতে গত বছরের ৪ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দল গুছিয়ে তারা আবার আন্দোলন শুরু করবেন।

সেবার তার ওই বক্তব্যের ২ মাস পর এপ্রিলে গিয়ে পঞ্চগড়, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, ময়মনসিংহ উত্তরসহ বেশ কয়েকটি জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ওই বছরের ১৮ জুলাই ঘোষণা করা হয় ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরেও এসব কমিটির প্রায় কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। ২ মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির সব ওয়ার্ড, থানা কমিটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল আহ্বায়ক কমিটিকে। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হন। এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ার্ড কমিটিই ঘোষণা করতে পারেনি তারা। এ অবস্থায় দুর্বল সাংগঠনিক ভিত্তির সঙ্গে যোগ হয় সরকারের নানা হামলা, মামলা ও হয়রানি। যার ফলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার পরও দলটি চলতি বছরের আন্দোলনে যেমন হয়েছে ব্যর্থ, তেমনি সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সমর্থকদের ভোট ঘরে তুলতে পারেনি। সর্বশেষ ৯ মে এক মতবিনিময় সভাসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, আবার দল পুনর্গঠন করবেন। এই আড়াই মাসে দল গোছানোর দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজই হয়নি। জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাজাহান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে পুনর্গঠনসংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্য নেই। আমি অসুস্থ। তবে যতদূর বুঝি, যেহেতু দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, সেহেতু দলের পুনর্গঠন নিয়ে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়ার পর আন্দোলনে দলীয় নেতাদের ভূমিকাসহ দলের খোঁজখবর নিয়েছেন খালেদা জিয়া। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক ভিত খুবই দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়ার মতো যোগ্য নেতাও নেই। তাই নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কয়েকজন সাংবাদিককে পৃথক পৃথকভাবে নেতা নির্বাচনের রূপরেখা দাঁড় করানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের মতামত হাতে পাওয়ার পর দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করার পর দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে সব কিছুই হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে।

অপর একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসার জন্য এ মাসের শেষ সপ্তাহে বিদেশ যাবেন মির্জা ফখরুল। তার ফেরার ওপর নির্ভর করবে দল পুনর্গঠনের প্রস্তুতি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, পুনর্গঠনের বিষয়ে এখনও কোনো কাঠামো দাঁড়ায়নি। আলোচনা হচ্ছে মাত্র। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পলিসি চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, দল পুনর্গঠন এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা যায় কিনা ভাবা হচ্ছে। এবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপরে আরেকটি কমিটি করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। দলের দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু বিএনপিমনা ও গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এই কমিটি করার চিন্তা আছে। তবে এমনটি করতে হলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দু’ভাগে ভাগ করারও চিন্তা আছে বলে জানা গেছে। যুগান্তর।






মন্তব্য চালু নেই