মেইন ম্যেনু

মারাত্মক পানিশূন্যতার কারণে হতে পারে যে ৭টি স্বাস্থ্য সমস্যা

দৈনিক ৮ গ্লাস পানি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ এটা শুনতে শুনতে বেশিরভাগ মানুষই ক্লান্ত ও বিরক্ত। কিন্তু আপনি কি জানেন পানিশূন্যতা আপনার শরীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে? যার ফলে আপনি বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাছাড়া আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশই পানি। আসুন জেনে নেই অপর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের উপর যে ক্ষতিকর প্রভাবগুলো পড়ে সেগুলোর ব্যাপারে।

১। জ্ঞানীয় কাজে এবং মেজাজের বিঘ্ন ঘটায়
মধ্যম মানের পানিশূন্যতা ও আপনাকে বদমেজাজি করে তুলতে পারে এবং জ্ঞানীয় কার্যক্রম যেমন- মনোযোগ, শর্টটার্ম মেমোরি এবং সতর্কতার মাত্রার উপর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করে। এগুলো ছাড়াও ডিহাইড্রেশন রাগ, দ্বিধা দ্বন্দ ও অবসাদ তৈরি করতে পারে।

২। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে
গরম আবহাওয়ায় এবং শারীরিক কার্যক্রমের সময় শরীর ঘামের মাধ্যমে তার শীতলীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। যখন তরল গ্রহণের সমপরিমাণ ঘাম নির্গত না হয় তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানি নেই শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে চালিয়ে নেয়ার জন্য। এই কারণেই গরমের সময় অনেক মানুষ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পানিশূন্যতার ফলে হিট স্ট্রোকে তাপমাত্রা শরীরের মধ্যে আটকে যায় বাহির হতে পারেনা। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

৩। কিডনির কাজে প্রভাব পরে
শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে রক্ত চাপ ও পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিডনি। মারাত্মক পানিশূন্যতা কিডনির উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে কিডনির কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ফলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।

৪। মাথাব্যথা
পানিশূন্যতার সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে ক্রমাগত মাথাব্যথা। গবেষকেরা দেখেছেন যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করলে এই মাথাব্যথা তিন ঘন্টার মধ্যে প্রশমিত হয়।

৫। হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে
রক্তচাপ, রক্তের ঘনত্ব ও হৃদস্পন্দন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আপনার শরীরের পানি গ্রহণ ও পানি বাহির হয়ে যাওয়ার উপর সাধারণভাবে রক্তের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ ঘামের মাধ্যমে রক্তের ঘনত্ব কমতে থাকে। যদি পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয় তাহলে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে শারীরিক অবসাদ অনুভব হতে পারে বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে।

৬। শুষ্ক ত্বক
আপনি কি পরিমাণ পানি পান করছেন তার উপর আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। এর কারণ ত্বক ৩০% পানি ধারণ করে যা স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে। ডিহাইড্রেশনের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে।

৭। মারাত্মক পেটে ব্যথা
পাকিস্তানী চিকিৎসকেরা দেখেছেন যে, তাদের বেশিরভাগ রোগী যারা বমি, পিঠে ব্যথা এবং পায়ে ব্যথার উপসর্গগুলো সহ মারাত্মক পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে আসেন সেই রোগীরা ছিলেন মারাত্মক পানিশূন্যতায় আক্রান্ত। তাদেরকে রিহাইড্রেশন থেরাপি দেয়ার ফলে তাদের লক্ষণগুলো প্রশমিত হয়।
ডায়রিয়া, বমি, ঘাম, ডায়াবেটিস এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পরে। বড়দের চেয়ে শিশুরা পানিশূন্যতায় ভোগে বেশি। কারণ তাদের শরীরের ৭০-৬৫ শতাংশ পানি। বিবিসি নিউজের মতে, প্রতি পাঁচ জনে একজন বয়স্ক মানুষ দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। অনেকেই পানি পান করতে ভুলে যান। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন এর ফলে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন।






মন্তব্য চালু নেই