মেইন ম্যেনু

মালয়েশিয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বাংলাদেশীরা

উৎকণ্ঠা ও উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী পাঁচ থেকে ছয় লাখ বাংলাদেশী। বৈধ-অবৈধভাবে বসবাস করা এসব বাংলাদেশীরা এক অনিশ্চয়তায় নিজেদেরকে অভিবাবকহীন ভাবছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়ার জন্য যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছিলো; তা বন্ধ করা হয়েছে নাকি চালু রয়েছে তার সঠিক তথ্য জানতে পারছেন না প্রবাসীরা। অবৈধদের বৈধতা দেওয়ার খবরে সবাই যখন খুশির অানন্দে ছিলো ঠিক তখনই শুরু হলো মালয়েশিয়ান পুলিশের ধড়পাকড়। এসব নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন রকম খবর বেরুচ্ছে। এরমধ্যে কোনটা পারমিট দেওয়ার খবর আবার কোনটা ধরপাকড়ের খবর।

বাংলাদেশীদের নিয়ে মালয়েশিয়ার পত্রিকাগুলো প্রতিদিন একাধিক খবর প্রকাশ করছে। যাতে ভালো-মন্দ দুটোই থাকছে। অবৈধদের বৈধতা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আদৌও হচ্ছে-কী হচ্ছে না, তা নিয়ে ভীষণ চিন্তায় প্রবাসীরা। প্রতিদিনই পরিচিতরা ফোন করে, এসএমএস করে পারমিটের খবর জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু, কোনো সঠিক খবর নেই। কারণ, মালয়েশিয়ার সরকার আজকে বলছে এক কথা, আবার পরেরদিনই বলছে অন্য কথা; তাদের কোনো কথা সঠিক তা বোঝা মুশকিল।

এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন প্রবাসীদের জন্য কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কোনো দিক-নির্দেশনাও নেই। স্যোশাল মিডিয়ার যুগে হাইকমিশন চাইলে প্রবাসীদের জন্য তাদের যে কোনো পরামর্শ খুব সহজেই সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। কিন্তু এ পর্যন্ত সে রকম কোনো পরামর্শ না-পেয়ে প্রবাসীরা ভয়ের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

মালয়েশিয়ান সরকারের হিসাব মতে সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে বৈধ শ্রমিকের সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ২শ’ ৮৭ জন। পাশাপাশি এর সমান সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকও সেখানে রয়েছে। সব মিলয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ বাংলাদেশীর সবাই উদ্বিগ্নতায় আছেন। অবৈধ যারা আছেন তারা আবার বৈধদের কারো ভাই, বন্ধু, আত্মীয় বা পাড়া-প্রতিবেশি। তাই বৈধ-অবৈধ সবাই উৎকণ্ঠায় আছেন। আবার পুলিশি অভিযানে অনেক সময় বৈধদেরও ধরে নিয়ে যায়।

মালয়েশিয়ায় অনেকের বৈধ ভিসা থাকলেও অভিযানে ভিন্ন বসের কাজে পেলে সমস্যা হয়। মালয়েশিয়ায় বৈধ বাংলাদেশীদের বিরাট একটি অংশ কিন্তু যে মালিকের নামে ভিসা তার হয়ে কাজ করে না। করে অন্য মালিকের কাজ। এ রকম ভিসার মালিকগুলো আসলে ঠিক মালিক না। তারা এজেন্ট। এজেন্টরা শ্রমিকের অন্যত্র কাজ করার মৌখিক অনুমতি দিলেও লিখিত অনুমতি দেয় না বলেই মানুষ কষ্টের টাকায় ভিসা করেও সমস্যায় পড়ে।

কুয়ালালামপুরে প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশীর সাথে এ বিষয়ে আলাপ করার পর তারা জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের উচিত স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠায় থাকা এসব বাংলাদেশীদের কাছে সঠিক খবর বা পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া। আর মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে অতিদ্রুত সমাধানের জন্য আলোচনা করা। যাতে করে বাংলাদেশীদের অযথা হয়রানির শিকার না হতে হয়।

লেখকঃ রফিক আহমদ খান

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। আওয়ার নিউজ বিডি এবং আওয়ার নিউজ বিডি-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)






মন্তব্য চালু নেই