মেইন ম্যেনু

মালয়েশিয়া নিয়ে ‘মুখে কুলুপ’ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের

মালয়েশিয়া নিয়ে মুখে কুলুপ (বন্ধ) দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। ‘বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেবে না মালয়েশিয়া’ দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদির শনিবারের এমন ঘোষণার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বারবার চেষ্টা করেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তার সহকারী একান্ত সচিব ইয়াসির মো. আদনানের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একেএম নিয়াজ মোর্শেদ ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় কথা বলবেন না। কালকে অফিসে আসেন দেখা যাক।’

এ ব্যাপারে বারবার ফোন দিয়েও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম শামসুন নাহারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জাবেদ আহমেদ ফোন ধরলেও তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় আমাদের হাইকমিশন আছে। লেবার কাউন্সিলর আছে- এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি আমাদের কিছু জানায়নি। দুঃখিত অফিসিয়ালি না জানানো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম ও কাউন্সিলর (শ্রম) সাইদুল ইসলামকে ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে বায়রা সভাপতি আবুল বাশার বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী না গেলে বাংলাদেশের খুব বেশি ক্ষতি হবে বলে মনে করি না। তবে চুক্তির একদিন পরেই বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া সরকারের কর্মী না নেওয়ার ঘোষণা আমাদের জন্য অপমানজনক। হতে পারে সেখানে কোনো কর্মীর প্রয়োজন নেই কিংবা কর্মী নিতে এক শ্রেণির মানুষ মনোপলি ব্যবসা করতে চেয়েছিল। সে যাই হোক এটা আমাদের জন্ম সম্মানজনক নয়, তাদের জন্যও নয়।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই হয় মালয়েশিয়ার সঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী রিচার্ড রায়ত ওই চুক্তিতে সই করেন। পাঁচ বছরমেয়াদী ওই সমঝোতার আওতায় মালয়েশিয়ায় যেতে মাথাপিছু ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা অভিবাসন ব্যয় ধরা হয়েছিল, যা নিয়োগকর্তাই বহন করবে বলে ওই দিন জানানো হয়। সেবা, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং এই পাঁচখাতে কর্মী নেওয়ার কথা ছিল দেশটির।

কিন্তু চুক্তি সই হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই (১৯ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি বিদেশ থেকে শ্রমিক না নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে, ঢাকা সফর শেষে কুয়ালালামপুরে গিয়ে মালয়েশিয়ান মানবসম্পদ মন্ত্রী রিচার্ড রায়ত বলেছিলেন, তাদের সরকার বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার চুক্তিতে প্রভাব পড়বে না। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করলেও মানবসম্পদমন্ত্রীর বক্তব্যে বেশ আশান্বিত হয়েছিলেন।

এরপর থেকেই মুখ বন্ধ করে রেখেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মন্ত্রণলায়ের অন্যান্য বিষয় নিয়ে তারা কিছুটা কথা বললেও শুরুতেই সাংবাদিকদের শর্ত দিয়ে আসছেন মালয়েশিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে ‘জি টু জি’ বা সরকারিভাবে শুধুমাত্র ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন করেন ১৪ লাখের বেশি মানুষ। তবে, নানা জটিলতায় জিটুজি পদ্ধতি ফ্লপ করে। তিন বছরে সাড়ে ৯ হাজারের মতো কর্মী যায় দেশটিতে।

অন্যদিকে নিবন্ধন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পেরে অনেকে হতাশ হয়ে জীবনবাজি রেখে সাগরপথেই মালয়েয়িশার উদ্দেশে যাত্রা করেন। যা বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উঠে এলে নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। এ প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি গত জুন মাসে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি তথা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সবখাতে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার আলোকেই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই হয়। শেষ পর্যন্ত তার মুখ থেকেই ঘোষণা এল বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেবে না মালয়েশিয়া।

এ ঘোষণার ফলে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুকরা আবারও হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে চুক্তির পর মালয়েশিয়া সরকারের এমন ঘোষণায় হতবাক হয়ে পড়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরাও। দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই