মেইন ম্যেনু

মাশরাফি-সাকিবদের প্রস্তুতি ম্যাচে নতুন বোলারটা কে?

একটু ধাঁধায় পড়ে যেতে হলো পরশু। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে মুশফিক-সৌম্যকে বোলিং করছেন হালকা গড়নের এক পেসার। বোলারটা কে? চটজলটি উত্তর পাওয়া গেল না।

পরে স্কোরকার্ড দেখে জানা গেল বোলারের নাম হোসেন আলী। নামটা একদমই অচেনা। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল, প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ কিংবা বিসিএল দূরে থাক, প্রথম বিভাগ ক্রিকেটই খেলা হয়নি তাঁর। জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচে এমন অচেনা কাউকে দেখলে কৌতূহল তো জাগবেই। তাঁর অভিজ্ঞতা বলতে সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা। নরসিংদীর হয়ে সেখানে সুযোগ পেয়েছেন ২ ম্যাচ। এর মধ্যে একটিতে আছে হ্যাটট্রিক।

একটি ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করা খেলোয়াড়দের নিয়ে। ক্যাম্পের জন্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের দায়িত্ব থাকা আমির বাবু হোসেনের কথা বলেছিলেন হাবিবুল বাশারকে। নেট বোলার হিসেবে কদিন আগে বিসিবির এই নির্বাচক তাঁকে সুযোগ দেন জাতীয় দলের অনুশীলনে। নেটে হোসেনের বোলিং দেখে ভালো লাগে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। বাংলাদেশ কোচই তাঁকে সুযোগ করে দেন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার।

অবশ্য ম্যাচে খুব একটা ভালো করতে পারেননি হোসেন। ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে দেশের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আকস্মিক খেলার সুযোগ পেয়েই কি না বেশ স্নায়ুচাপে ভুগেছেন। তিনটি ‘নো’ হয়েছে নাকি এই কারণেই? তবে মাশরাফি-সাকিবদের সঙ্গে খেলতে পেরে রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে ১৮ বছর বয়সী এই পেসারকে, ‘ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। রানআপ মেলাতে পারছিলাম না। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে গেছে। তবে তাদের (জাতীয় দল) সঙ্গে খেলতে পারে ভীষণ ভালো লাগছে।’

হাবিবুলও জানালেন, স্নায়ুচাপের কারণে স্বাভাবিক বোলিংটা করতে পারেনি হোসেন, ‘সে বুঝেছে এই পর্যায়ে বোলিং করা কতটা কঠিন। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো বোলিং করেছে শুনে আমরা একটু সুযোগ দিয়েছি তাকে।’ বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ও সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল নাকি বেশ প্রশংসা করেছেন তাঁকে। এই ম্যাচ খেলার জন্য পেয়েছিলেন জাতীয় দলের অনুশীলন জার্সি। এটি সযত্নে তুলে রাখতে চান হোসেন, ‘এটা আমার অনেক বড় পাওয়া। আবার কবে এমন সুযোগ আসবে কে জানে!’

হোসেনের গল্পটা যেন লটারি জিতে হঠাৎ একদিন পাঁচতারকা হোটেলে ডিনার করার মতো। কিংবা রূপকথার সেই এক দিনের রাজা! তবে এখানে তাঁর প্রাপ্তি কম নয়। ম্যাচের পর টিম মিটিংয়ে ছিলেন। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন, নিশ্চয়ই সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতার ভান্ডার। সেই সঙ্গে বেড়েছে স্বপ্নের পরিধি। কে জানে একদিন সত্যিকারের জাতীয় দলের দুয়ার তাঁর জন্য খুলবে কি না!






মন্তব্য চালু নেই