মেইন ম্যেনু

মায়ের কোলে ‘ক্লান্ত’ তাসকিনের ফেরা

প্রায় এক মাস ধরে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। রিকশা-গাড়ি তো দূরে থাক, এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই কঠিন। কবে এই খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হবে কে জানে!

আবদুর রশিদ কিছুটা হেঁটে রাস্তার মোড়টায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা এই ফাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনের পোলা আইব কখন?’

—এই তো কিছুক্ষণের মধ্যেই।

‘হের আবার মাঠে নামতে কত বছর লাগব?’

আবারও মা-বাবার পাশে তাসকিন, এভাবে ফিরতে চাননি অবশ্য। ফা​ইল ছবিআবদুর রশিদকে খানিকটা বিব্রত দেখায়। এমন প্রশ্নের উত্তর কী হতে পারে? তাসকিনের ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা যেন এখন বাংলাদেশের সবার। এই ঘামে-ভেজা মেহনতি মানুষদেরও। এর মধ্যেই মন্দের ভালো খুঁজে পেলেন একজন, ‘ভালো অইছে, এই রাস্তা দিয়াই তো হাঁইটা যাইব। সব সময় টিভিতে দেহি। নিজের চক্ষে তারে দেখতে পাব।’
ছেলের প্রতি মানুষের এই আবেগ-আগ্রহ আপ্লুত করে আবদুর রশিদকে। কিছুক্ষণ পরই বিসিবির গাড়িটা এসে থামে। নেমে আসেন তাসকিন আহমেদ। বাবা আবদুর রশিদ বুকে জড়িয়ে নেন তাঁকে। মিষ্টি হেসে সবার কুশল জিজ্ঞেস করেন। শ্রমিকেরা নিজেদের কাজ ফেলে দৌড়ে আসেন তাসকিনের ব্যাগ-লাগেজ ধরতে।
মা সাবিনা ইয়াসমিন অপেক্ষায় ছিলেন সিঁড়ি ঘরে। ছেলেকে পরম স্নেহে বুকে আগলে নেন। তাসকিন এমন বহুবার ফিরেছেন বিদেশ সফর শেষে। গত বছর এই মার্চেই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শেষে ফেরার পর এই মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডেই কী হুলুস্থুল কাণ্ডটা না হয়েছিল! তাসকিনকে বীরের বেশে বরণ করে নিয়েছিল এলাকাবাসী। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষেও হতে পারত একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
কিন্তু একটা ঘটনাই এলোমেলো করে দিয়েছে সব। ৯ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই অভিযোগ উঠেছিল অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ। মানসিক ধাক্কা সামলে খেলেছিলেন প্রথম পর্বের সবগুলো ম্যাচই। ১৫ মার্চ চেন্নাইয়ে দিতে গিয়েছিলেন পরীক্ষা। পরীক্ষার ধকল না কাটতেই পরের দিন ইডেনে খেলেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচও। ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের বাজে পারফরম্যান্সের দিনে তিনিই ছিলেন যা উজ্জ্বল।

পরীক্ষা ভালো হয়েছে, ফল তাঁর পক্ষেই আসবে—এমনই ছিল আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেল ১৯ মার্চ। আইসিসি জানাল, তাসকিনের কিছু কিছু ডেলিভারি অবৈধ। বিসিবি অবশ্য এই ফল পুনর্বিবেচনা করতে আবেদনও করেছিল। কিন্তু শেষমেশ আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল আইসিসি। শেষ হয়ে গেল তাসকিনের বিশ্বকাপ।

কাল দলের সঙ্গে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা এসেছিলেন। আজ সকাল নটায় পৌঁছেছেন ঢাকায়। এভাবে একা ফিরতে হবে, তা কী ভেবেছিলেন! ক্যারিয়ারে দুঃসময় গেছে অনেকবার। কিন্তু এমন কঠিন সময় কি এসেছে? নিজের ঘরটায় বসে তাসকিন চারদিকে তাকান। উত্তর হাতড়ে বলেন, ‘নাহ, আসেনি। চোটে পড়েছি, খারাপ সময় গেছে অনেকবার। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়িনি। এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম।’

ধাক্কা খেলেও ভেঙে পড়েননি তাসকিন। শিগগির ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা তাঁর কণ্ঠে, ‘যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমার একটাই লক্ষ্য, দ্রুত ফেরা। দেশবাসী ও বিসিবিকে ধন্যবাদ, সবাই আমাকে সমর্থন ও সহায়তা করেছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।

শুরুতে ভেঙে পড়লেও সাহস পেয়েছি সবার সমর্থনে। আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারি।’

আপাতত পরিকল্পনা কী? ঝটপট জবাব, ‘ঘুম! এখন ঘুমাব।’ চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ; যতটা না ভ্রমণের, তার চেয়ে বেশি গত কদিনে বইয়ে যাওয়া ঝড়ের।

খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে তাসকিনে আবার জেগে উঠতে চান নতুন উদ্যমে, নতুন শক্তিতে।

ভিডিও:






মন্তব্য চালু নেই