মেইন ম্যেনু

মা আমাকে পতিতা বলে গালি দেয়…

প্রশ্ন:আমার বয়স ১৩ বছর। আমার পরিবারে আমার মা আর ছোট বোন থাকে। মা চাকরি করেন। মা আমাকে প্রায়ই অকারণে বকাবকি করেন। আমাকে একজন পতিতার সাথে তুলনা করে গালি দেন। উল্লেখ্য আমার কোন প্রেম গঠিত ব্যাপার নেই। আমি এসব গালি আর সহ্য করতে পারছিনা। কী করবো আমি?

পরামর্শ: তুমি এইটুকুন একটা মেয়ে আপু। এত অপ বয়সে মা তোমাকে নোংরা ভাষায় গালাগাল করেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি কোন অবস্থাতেই তোমাকে পতিতা হিসাবে গালি দিতে পারেন না। তোমার যদি প্রেম ঘটিত সমস্যা হয়, তাও না। যাই হোক, এখন আমি তোমাকে কিছু কথা বলবো। প্লিজ একটু বুঝতে চেষ্টা করো আপু।

তুমি লিখেছ যে বাসায় মা, তুমি এবং ছোটবোন থাকো। তারমানে বাবা নেই। অয় বাবা মৃত, নতুবা মায়ের সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে, নতুবা দূরে কোথাও থাকেন। আবার মা চাকরিও করেন। তাই বুঝতে পারছি যে সংসারে খরচ চালাবার জন্যই মা চাকরিটা করছেন। একটা জিনিস জানো কি আপু, এই সমাজে নারীর জীবন খুব কঠিন। বিশেষ করে সেই নারী যদি স্বামীহীন হন এবং দুটি সন্তানের মা হন- তাহলে জীবনটা তার জন্য মারাত্মক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একা একা দুটি মেয়েকে মানুষ করা মোটেও সোজা কাজ নয়, যা তোমার মা করছেন। জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাতে মায়ের ভেতরটা হয়তো একেবারে ভেঙে পড়েছে। তাই তার মনের চাপা রাগ ক্রোধ এইসব বের হয়ে আসে অশ্লীল বকাবকির মাধ্যমে। তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো যে মা যা বলেন, তার কিছুই মন থেকে বলেন না। এবং বলার পর তাঁরও খুব খারাপ লাগে। কিন্তু সেই সময়ে তিনি মেজাজটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তোমার ওপরে রাগ ঝেড়ে দেন।

তুমি যা করতে পারো আপু… কিছুতেই মায়ের অবাধ্য হবে না। এমন কিছুই করবে না যাতে মা ক্ষেপে যান। উল্টো সম্ভব হলে মাকে ঘরের কাজকর্মে সাহায্য করবে। মা যে সারাক্ষণ বকাবকি করেন, তা তো না। নিশ্চয়ই আদরও করেন। সেই আদরের সময়ে মাকে একদিন আস্তে করে বলবে যে তিনি যে তোমাকে খারাপ ভাষায় গাল দেন, এটায় খুবই কষ্ট পাও তুমি। তোমার খুবই খারাপ লাগে। মুখে বলতে লজ্জা পেলে সুন্দর করে একটি চিঠি লিখতে পারো মায়ের জন্য। চিঠিতে কষ্টের কথার পাশাপাশি এটাও লিখবে যে মাকে তুমি কতটা ভালোবাসো। মা যখন জানবেন যে তুমি কষ্ট পাচ্ছো এমন আচরণে, মা নিশ্চয়ই নিজেকে সংযত করতে চেষ্টা করবেন। আর তুমিও মাকে একটু বোঝার চেষ্টা করো। এখন বড় হয়েছ, মাকে মা না ভেবে বান্ধবী ভাবার চেষ্টা করো। দেখবে মায়ের কষ্ট বুঝতে পারছো।প্রিয় লাইফ

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই