মেইন ম্যেনু

মা-বাবার পরকীয়ার ফাঁদে মেয়ে : দেখুন কি নির্মম চাপাকষ্টের মধ্যে বড় হয়েছে দু’বোন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী জানিয়েছেন নিজের অত্যন্ত করুণ কাহিনী। কিছু অংশ বাদ দিয়ে বাকি পুরোটাই তুলে দিলাম। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না হয়তো।

“আমরা দুই বোন। ছোট থেকে দেখতাম আমার আব্বা বাইরে চলে গেলে আম্মু অন্য ছেলেদের বাসায় আনত। বাবা বাসায় না থাকলে তারা রাতে থাকতো। আর আম্মু বলতো বাবার নাকি অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক।

বাবারটা আমি জানি না, তবে বাবা আমার বড় মামীকে পছন্দ করতেন। আমি যখন ক্লাস টু তে পড়ি তখন বাবা আমার বড় মামিকে বিয়ে করে। আমার বাবা আল্লাহ বিশ্বাস করেন না। উনি বলেন উনি মানব ধর্ম মানেন। বাবার বিয়ের পর মা আমাদের দুই বোন নিয়ে থাকেন।

আম্মুর একজনের সাথে সম্পর্ক ছিল, বাবা তা নষ্ট করলো। তার কিছু দিন আবারও নতুন কেউ আসে। বাবা না থাকলে ছেলেগুলো রাতে থাকত। আমার দুই বোন দেখতাম। আমি কিছু বুঝতাম না। আপু বুঝতো। আম্মু ধরা পড়লে সব দোষ আপুর দিত। আপু তখন মাত্র পড়তো। আপু কখনো কোন ছেলের সাথে কথা বলতো না। কিন্তু আম্মু ওর দোষ দিতো সবার সামনে। আপু শেষ পর্যন্ত আর না পেরে বাবাকে বলে দেয়। বাবা ওকে নিয়ে যায়। আমি রয়ে যাই। আমার নানু বাসায় আমাকে কাজের মেয়েদের মতো রাখত। আর মা তার বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। আর আমাদের বাসার ওই মামাটা এই নানু বাসায়ও আসত। রাতে থাকত। আমি ভয় পেতাম।

আমি ফাইভে থাকতে মায়েরও বিয়ে হয়ে যায়। আমি বাবার কাছে চলে আসি। এইখানে দুই রুমের বাসায় একটা রুমে বাবা আর মামি থাকত অন্যটায় আমরা দুই বোন আর মামির বোনরা। আমি বাইরে গেলে কেউ আমার সাথে মিশতো না। খারাপ কথা বলতো। আমি তাই বাবার সাথে ঝগড়া করতাম। তখন বাবা আমাকে মানসিক রোগের ওষুধ খেতে দিতেন। চার বছর আমি ঘুমের ওষুধ খাই। আমার পড়াশোনা নষ্ট হয়। ক্লাস টেনে জোর করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেই। তার পর আমি ssc পরীক্ষা দেই। আমি এখন diploma korsi architecture department a।

আমার মামী (আব্বুর দ্বিতীয় স্ত্রী) আমাকে অনেক কষ্ট দিত। বাবা কিছু বলতেন না। আমাকে দেখার কেউ ছিল না। আমি খাইছি কিনা বা কি করি কোন খবর কেউ নিত না। আমি ssc দেয়ার পর বাসার বাইরে থাকি। ওইখানে একজন এর সাথে পরিচয় হয়। আমি তাকে বিয়ে করি। আমরা আমাদের বাসার আলাদা একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম। আমার মামী তা চাইত না যে আমরা এইখানে থাকি। উনি সবাইকে আমার নামে খারাপ কথা বলে বেড়ায়। আমার আপুর বাচ্চার বয়স ৫ মাস। এখন মামীও সম্পত্তির জন্য বেবি নিয়েছে। বাবা তাই বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। আবার সেই ঝামেলা। আমি তাই মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আর আমার মা এখনও বাবার সাথে কথা বলে। সে আরো ঝামেলা বাধায়।

আমার স্বামী ইসলামিক মাইন্ডের। উনি মা-বাবার কথা বলা পছন্দ করে না। আর মা নিজে যা মনে হয় তাই করে। তাদের মত আমাদের চলতে হবে। যুক্তি বা মানসম্মান থাকে না আমাদের। আমার স্বামীকে কিছু দিন আগে বলেছে তাদের বাসায় যেন আর না আসে। কিছু দিন পর আবার আসতে বলে। আমার স্বামী তখন আর আসতে চায় না। তাও আমার জন্য আসে। আম্মু আমাদের পদেপদে দোষ ধরে। আমার বাবাকে নানা কথা বলে ঝামেলা বাধায়। আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব। তাই চাই না কারোর সাথে কথা বলতে। আমি মরতে চাই মাঝেমধ্যেই। তখন ভাবি আমি তো বেহেস্ত পাব না, তাই মরতেও পারি না। আমার মায়ের কথা মনে হলে ঘৃণা হয়। আবার মা তো, তাই খারাপ লাগে। আমি আর আমার বর দুই জনই পড়াশোনা করি। বাবা কিছু টাকা দেয় আর উনার বাড়ি থেকে কিছু টাকা আছে। উনার বাড়ির কেউ আমার কথা জানে না। তাই আমি বাবা বা মায়ের থেকে আলাদা হতে পারছি না। কী করব আমি? (নাম বলবেন না প্লিজ)”

পরামর্শ:

আপু, খুবই খারাপ লাগল তোমার জীবনের এই বিভীষিকা ময় কাহিনী পড়ে। কাহিনীর অনেক কিছুই আমার কাছে অস্পষ্ট। যেমন, তোমার মা বাবা এখনো কেন কথা বলে? বাবা মামীকে আর মা পরকীয়ার প্রেমিককে বিয়ে করার পর কথা বলার বিষয়টি কেমন যেন। অন্যদিকে তোমার বোন কই থাকে, তাঁর কোথায় বিয়ে হয়েছে বা কী সেটাও লেখোনি।

যাই হোক, তোমার এই পারিবারিক সমস্যা কখনো মিটবে এটা আশা করা বোকামি। আমি আমার জীবনে এমন জটিল পারিবারিক ঘটনা খুব কমই দেখেছি। এই পরিবার থেকে বের হয়ে যাওয়ার তোমার একটাই উপায় ছিল, সেটা হচ্ছে ভালো একটি পরিবারে বিয়ে করে চলে যাওয়া। নিদেন পক্ষে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী একটি ছেলেকে বিয়ে করা। কিন্তু তুমি এখানেও একটি বড় ভুল করে ফেলেছ। এমন একটি ছেলেকে বিয়ে করেছ যে অন্যের টাকায় চলে। তাঁর বাড়িতেও তোমার কথা জানে না। এখন যদি সে তোমাকে ফেলে রেখে চলে যায়? জীবনের কথা কেউ বলতে পারে না আপু।

এখন তোমার একটি কাজই করণীয়। যেভাবেই হোক নিজের পায়ে দাঁড়াও, নিজে উপার্জন করতে শেখ, স্বাবলম্বী হয়ে ওঠো। একই সাথে তোমার বরকেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলো। এখনো কোন সন্তান নেবে না। ভুলেও না। অযথা এতে কেবল ঝামেলাই বাড়বে। নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের আলাদা সংসার বানিয়ে তবেই সন্তান নেবে।

আর মানসিক সমস্যা উন্নত করতে অতি অবশ্যই একজন ভালো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাও। কাউন্সিলিং করালে তোমার মনটা অনেক হালকা হয়ে যাবে। এত জটিলতা নিজের মাঝে রেখে বাঁচা যায় না। তোমাদের দুই বোনের জীবনে অতীতে যা ঘটে গিয়েছে, সেটার জন্য নিঃসন্দেহে তোমাদের পিতা মাতা দায়ী। কিন্ত ভবিষ্যতে যা ঘটবে, সেটা তোমরা বদলে দিতে পার। তাই আশা ছাড়বে না আপু। আত্মহত্যা মহা পাপ আপু। তুমি নিজেই পার নিজের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে। তাই হাল না ছেড়ে এগিয়ে যাও। সৃষ্টিকর্তা তাতেই সাহায্য করেন যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে। ছবি প্রতীকী






মন্তব্য চালু নেই