মেইন ম্যেনু

তদন্তের আগেই প্রধান শিক্ষক ও যুব উন্নয়ন কর্মকতার কারসাজি

মিঠাপুকুরের ছড়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাড়া অভিভাবক দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি!

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন ভাড়া করা অভিভাবক দিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক ইয়াকিন মিয়া। পাশের হলিচাইল্ড বিদ্যালয় ও ফাইম রেসিডেন্সিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নাম দিয়ে চুড়ান্ত ভোটার প্রনয়ন করেন তিনি।

এ বিষয়ে ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাকগণ চুড়ান্ত ভোটার তালিকা ভুল সংশোধন করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগপত্র দেন। উপজেলা নির্বাহি অফিসার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও যুব উন্নয়ন অফিসারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে যুব উন্নয়ন অফিসার কায়ছার আলী তদন্তের পূর্বেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এ খবরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণের মাঝে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নে অবস্থিত ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে কমিটি গঠনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকিন মিয়া কৌশলে নিজের লোকদের ম্যানেজিং কমিটিতে নিয়ে আসার জন্য ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে অভিভাবক তৈরী করেন। পাশের হলিচাইল্ড বিদ্যালয় ও ফাইম রেসিডেন্সিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নাম দিয়ে চুড়ান্ত ভোটার প্রনয়ণ করেন। ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭৪ জন।

অথচ, চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় তিনি শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন ৫৩৭। এছাড়াও, ভোটার তালিকায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর নাম ভুল ছাপানো হয়েছে। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রনয়ণের পর শ্রেণীকক্ষে পাঠ করে নোটিশবোর্ডে ৩ দিন ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। বিদ্যালয়ে যোগদানের ১ বছর পূর্ণ না হওয়াতেও শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল বারী নামে দুই শিক্ষককে ভোটার তালিকায় নাম দিয়েছেন। অভিভাবক আবু বর, গোলাম মোস্তফা, ফাত্তার, মোন্নাফ, নুরনবী মন্ডলসহ অনেকে বলেন, প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা করেছেন।

তারা আরও বলেন, অভিযোগের তদন্তের আগেই প্রধান শিক্ষক ও যুব উন্নয়ন অফিসার কারসাজি করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে ছড়ান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকিন মিয়ার সাথে একাধীকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। তবে, তদন্তের আগেই কিভাবে তফসিল ঘোষণা হল-প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমার জানা নেই। এটি যুব উন্নয়ন অফিসারই জানেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যুব উন্নয়ন অফিসার কায়ছার আলী বলেন, নিয়মানুযায়ী তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করা হবে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহা. হারুনÑঅর-রশীদ বলেন, আমি রির্টানিং অফিসারকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হলেও নির্বাচন বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই