মেইন ম্যেনু

মিঠাপুকুরে চাকুরী দেওয়ার নামে ৩৬ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য

রংপুরের মিঠাপুকুরে রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও’র বিরুদ্ধে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে । সুপারভাইজার এবং মাঠকর্মী পদে নিয়োগ দিয়ে ৩৬ লাখের বেশি টাকা আতœসাতের পর গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ১১ মাস ধরে বেতন ভাতাও পাননি ১শ ৭০ জন ইউনিয়ন সুপার ভাইজার ও মাঠকর্মী। বায়ু মন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাসকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে নিয়োগ দেওয়া হয় এসব কর্মচারীদের। নিয়োগের বিপোরীতে সংস্থাটির মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিল চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।

এমন অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন সুপার ভাইজার ও মাঠকর্মীরা। বর্তমানে কার্যালয় তালাবদ্ধ। এ ঘটনায় তাঁরা জনপ্রশাসন সর্ম্পকিত সংসদিয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) সংসদ সদস্য, রংপুর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

মাঠকর্মী ও ইউনিয়ন সুপার ভাইজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালের প্রথমের দিকে বায়ু মন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাসকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মিঠাপুকুরে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশন। ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে লিখিতভাবে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাকুরী প্রত্যাশীরা যোগাযোগ করেন উপজেলা কার্যালয়ে।

এ সুযোগে উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিল প্রতিজন ইউনিয়ন সুপার ভাইজার ৪০ হাজার ও মাঠকর্মী ২০ হাজার করে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা উৎকোচ নেন। গত বছরের ১ ডিসেম্বরে নিয়োগপত্র দেন ১৫৩ জন মাঠকর্মী ও ১৭ জন ইউনিয়ন সুপার ভাইজারকে। নিয়োগ প্রাপ্তির পর মাঠ পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে বেইস লাইন সার্ভে শুরু করেন কর্মচারীরা।

তারা প্রতিজন সদস্যের কাছ থেকে ১শ করে চাঁদা নিয়ে লাখ খানেক টাকা জমা দেন উপজেলা কার্যালয়ে। কয়েক মাস বেতন ভাতা ছাড়াই কার্যক্রম চলে এভাবেই। পরে কর্মচারীরা বেতন ভাতার জন্য চাপ প্রদান ও উৎকোচের টাকা ফেরত চাইলে অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যান রূপালী হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশনের মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিল।

ইউনিয়ন সুপার ভাইজার ও মাঠকর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেকে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধারে মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে মশিউর রহমানের দু’টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্থাপন করা হয় রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশনের উপজেলা কার্যালয়। এই কার্যালয়ে বায়ু মন্ডলে কার্বণ ডাই অক্সাইড হ্রাসকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। ক’মাস কার্যাক্রম পরিচালনার পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় কার্যালয়টি।

এরপর কর্মচারীরা যোগাযোগ শুরু করেন উপজেলা ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিলের সাথে। মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয়ের সকল দায়িত্ব আহম্মদ আলী নামে একজনকে অলিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে বলে কর্মচারীদের জানান আব্দুল জলিল। বলেন, কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। আহম্মদ আলী রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশনের পীরগঞ্জ উপজেলা ব্যবস্থাপক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলা ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিল এখন রংপুর জেলা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রংপুর পর্যটন মোড়ে জেলা কার্যালয় খুলে সব উপজেলায় বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে- রংপুর সদর, পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলাসহ রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায়। মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন সুপার ভাইজার রুলিয়া পারভীন বলেন, আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর আমরা মাঠ পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ ও চাঁদা আদায় করে উপজেলা কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা বেতন-ভাতা পাইনি। উপজেলা কার্যালয়টি বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে। দূর্গাপুর ইউনিয়নের মাঠকর্মী সাইদা আক্তার রুনা বলেন, মাঠ পর্যায়ে বেইস লাইন সার্ভে করার কয়েক মাস পর উপজেলা কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। আমরা কোন বেতন ভাতা পাইনি।

বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন সুপার ভাইজার দেলোয়ার হোসেন মিলন বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিজন কর্মচারীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ, ১১ মাসেও কাউকে বেতন দেওয়া হয়নি। আমার বেতন-ভাতা ও উৎকোচের টাকা ফেরত চাই।

রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশনের মিঠাপুকুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও পীরগঞ্জ উপজেলা ব্যবস্থাপক আহম্মদ আলী বলেন, জলিল সাহেব এখন জেলা ব্যবস্থাপক। আমাকে অলিখিতভাবে মিঠাপুকুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি অর্থনৈতিক কোন কেলেঙ্কারীর দায়-দায়িত্ব নেব না।

তিনি আরও বলেন, বায়ু মন্ডলে কার্বণ ডাই অক্সাইড হ্রাসকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এ পর্যন্ত দাতা সংস্থা থেকে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই আপাতত: বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা।

অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আব্দুল জলিলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। নিসন্দেহে এটা প্রতারনা।

চাকুরী দিয়ে টাকা আতসাত এবং প্রতারনার দায়ে ওই এনজিও’র বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করলে সর্বাতক সহায়তা করা হবে। ভুক্তভোগিদের পাশে প্রশাসন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এনজিও’র আগামী সভায় আমি বিষয়টি তুলে ধরবো।






মন্তব্য চালু নেই