মেইন ম্যেনু

মিঠাপুকুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের হত্যার হুমকি দিয়ে ‘জেলা জঙ্গি কমান্ডারের’ চিঠি

মো: শামীম আখতার, উপজেলা প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর) : রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের হত্যার হুমকি দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ‘জেলা জঙ্গি কমান্ডার’ মোঃ তৈয়ব ইবনে আসিব। বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে এই চিঠিটি আসে। এরপর থেকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। রোববার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।

সাধারন ডায়েরীর সুত্র ধরে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ২ টার দিকে রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে হাতে লেখা একটি চিঠি আসে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। খামের উপর রংপুরের হাজিরহাটের আসিফ হাসান উত্তম ও চিঠির শেষে জেলা জঙ্গি কামন্ডারের পরিচয়ে মোঃ তৈয়ব ইবনে আসিব চিঠিটি পাঠায়। এরপর থেকে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় বিষয়টি নিয়ে। পরে রোববার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। যার নং- ১৩৯৪, তাং- ৩১/০৭/২০১৬ইং।

চিঠিতে বলা হয়েছে- মিঠাপুকুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা বেপর্দায় চলাফেরা করে। এছাড়াও, তারা পুরুষ শিক্ষকদের সাথে গোপন সর্ম্পক করে থাকে। সেজন্য তাদের হত্যা করা হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে- তবে, বেশিভাগ শিক্ষিকাই পর্দার সাথে চলা ফেরা করে। বাকি যারা বেপর্দায় চলাফেরা করে তাদের হত্যা করা হবে।

জঙ্গিরা চিঠিতে দাবি করছে- মিঠাপুকুরের ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে লতিবপুর, পায়রাবন্দ, দূর্গাপুর, বড় হযরতপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। বাকী ইউনিয়নগুলোর তথ্য তারা জোগাড় করতে পারেনি। তবে, ওই সব ইউনিয়নের পূনাঙ্গ তথ্য তারা সংগ্রহ করছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে- যারা বেপর্দায় চলাফেরা করছেন তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাই তাদেরকে হত্যা করা হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ডাকযোগে চিঠি পওয়ার পর আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও শিক্ষার দপ্তরের উদ্ধর্ত্বন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। চিঠিতে বেপর্দায় ঘোরাফেরা করা শিক্ষিকাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছি।

মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনাচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি আমাকে বলেছে। আমি একটি ডিজি করতে বলেছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।






মন্তব্য চালু নেই