মেইন ম্যেনু

মিনার দুর্ঘটনা কি এড়ানো যেত?

সৌদি আরবের মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে সাত শতাধিক নিহতের ঘটনায় সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠেছে। এই দুর্ঘটনা কি এড়ানো যেতো-এ ব্যাপারে বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি বাংলা।

হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে পায়ে হেঁটে বেশ কয়েক মাইল দূরত্বের বেশ কয়েকটি পথ পাড়ি দেওয়া। এছাড়াও গত কয়েক দশকে হজযাত্রীর সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এবছর হজ করছেন ২০ লাখ হাজি। সৌদি সরকার সবসময় বলেছে প্রতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মক্কায় যান তাদের এবং সারা বছর ওমরাহ করতে যারা যান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

মক্কার আল-হারাম মসজিদ এলাকা সম্প্রসারণের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি ডলার অর্থব্যয় করেছে এবং মক্কার বাইরে মিনার মত পবিত্র স্থানে যারা হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন সেখানে ক্রমবর্ধমান হাজির ভিড় সামাল দিতে তারা বেশ কিছু সেতু ও সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছে। এই মিনাতেই আগেও পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

যদিও ২০০৬-এর পর হজ পালনের সময় এতবড় দুর্ঘটনা ঘটল এবছরেই, কিন্তু অনেকেই বলে এসেছেন যে অপেক্ষাকৃত সরু জায়গার মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের অর্থ হলো সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো অসম্ভব।

উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেখানে হজ পালন করতে মানুষ আসেন বিশ্বের দুইশ দেশ থেকে। তারা কথা বলেন কয়েকশ ভিন্ন ভাষায়।

তারা বলছেন, ফলে হাজিরা নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়মকানুন যে মেনে চলছেন এটা নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর অনেক সময়ই ছোটখাট কিছু ঘটলে আতঙ্কিত মানুষের হুড়োহুড়ির কারণে তা নিয়েন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা হাজিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এই বলে যে, নিয়মকানুন মেনে চলা এবং নির্দেশ অনুসরণ করা সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

হজ পালনের ব্যবস্থায় নিযুক্ত অন্য দেশ থেকে যারা আসেন তারাও হাজিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে একথা স্বীকার করেছেন সৌদি কর্মকর্তারা।

তবে, ভিড়ে পদদলিত হওয়ার ও আগুন লাগার ঝুঁকির পাশাপাশি সৌদি সরকারকে নিরাপত্তা হুমকিরও মোকাবেলা করতে হয়।

গত কয়েক মাসে সৌদি আরবে কয়েকটি শিয়া ও সুন্নি মসজিদের ওপর জিহাদি আইএস গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হজের সময় হামলার আশংকাও সৌদি কর্তৃপক্ষকে মাথায় রাখতে হয়।

১৯৭৯ সালে জঙ্গিদের আল-হারাম মসজিদ অবরোধ করে রাখার এবং সে বছর হজ পালনের পর বেশ কিছু হাজিকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছিল।

সন্ত্রাস, অন্তর্ঘাত জাতীয় ঝুঁকি মোকাবেলায় আল-হারামের ভেতর ও তার আশেপাশে শত শত ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স বাহিনীর দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলার উল্লেখ করা হলেও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ঔদ্যাসিনের অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।

এই বিশ্লেষণটি লিখেছেন জেটিজি নামে নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ফাহাদ নাযার নামে যে সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তিনি বলছেন আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওই এলাকার রাজনৈতিক সহিংসতা ও জাতিগত অসন্তোষের প্রেক্ষাপট। তিনি বলছেন, এই প্রেক্ষাপটের কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষকে এমন হুঁশিয়ারি দিতেও শোনা গেছে যে ”হজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ ব্যবহার করলে তা বরদাশত করা হবে না।”



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই