মেইন ম্যেনু

মিশন বিশ্বকাপের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

অনেকেরই হয়তো জানা নেই, বাংলাদেশেরও আগে বিশ্বকাপে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস! টি-টোয়েন্টি নয় অবশ্য, ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ডাচদের সঙ্গে খেলতে পারত বাংলাদেশও। কিন্তু তার দুই বছর আগে আইসিসি ট্রফিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্রিকেটের সেরা আসরে খেলার স্বপ্নপূরণ হয়নি।

অবশ্য বিশ্ব ক্রিকেটের কঠিন মঞ্চে জায়গা করে নিতে বেশিদিন অপেক্ষাও করতে হয়নি। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের আবির্ভাব। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পাকিস্তান-বধ আর সেই সাফল্যের হাত ধরে টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির কথাও কারো অজানা নয়।

তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ ক্রিকেটের সমীহজাগানো শক্তি। ওয়ানডেতে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ কিংবা ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। টি-টোয়েন্টির হতাশা পেছনে ফেলে এশিয়া কাপে রানার্সআপও হয়েছে। এবার সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামীকাল নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাশরাফিদের নতুন মিশন।

ডাচরা বাংলাদেশিদের আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেললেও এখন দুই দলের মধ্যে বিশাল ব্যবধান। আইসিসির সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষে অদূর ভবিষ্যতেও টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার স্বপ্ন দেখাই কঠিন। অথচ বাংলাদেশকে সমীহ করছে সব ক্রিকেট-পরাশক্তি।

এবারের এশিয়া কাপের আগে টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য বেশ দুরবস্থাই ছিল বাংলাদেশের। এমনকি গত জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চার ম্যাচের সিরিজও ড্র করেছিল মাশরাফির দল। সেই হতাশা অনেকখানি ঘুচে গেছে শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এশিয়া কাপে রানার্সআপ হওয়ায়।

এশিয়া কাপ বাদে সাম্প্রতিক সময়ে ২০ ওভারে ক্রিকেটে বলার মতো সাফল্য নেই বাংলাদেশের। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিন্তু বাংলাদেশ চমকে দিয়েছিল ক্রিকেট-দুনিয়াকে। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল সুপার এইট বা দ্বিতীয় পর্বে।

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১২টি দলকে ভাগ করা হয়েছিল চারটি গ্রুপে। বাংলাদেশকে কঠিন গ্রুপেই পড়তে হয়েছিল। ‘এ’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম ম্যাচেই চমক। ১৩ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছয় উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের ছুড়ে দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্যে লাল-সবুজের দল পৌঁছে গিয়েছিল ১২ বল হাতে রেখে। মোহাম্মদ আশরাফুলের (২৭ বলে ৬১) ঝড়ো ইনিংসের সঙ্গে আফতাব আহমেদের (৪৯ বলে অপরাজিত ৬২) দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের যোগফল সহজ জয় এনে দিয়েছিল।

ঐ টুর্নামেন্টে অবশ্য আর কোনো সাফল্য ছিল না বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা আর সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল। তবে ক্যারিবীয়-বধের জন্যই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট-ইতিহাসে।

পরের তিনটি বিশ্বকাপ মোটেই ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। এমনকি ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের কাছেও হার মানতে হয়েছিল।

২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপও ভালো কাটেনি। বাছাইপর্বে আফগানিস্তান আর নেপালকে সহজে হারালেও হংকংয়ের কাছে দুই উইকেটে হারের লজ্জা পেতে হয়েছিল। তাতে অবশ্য সুপার টেনে খেলা আটকায়নি। তবে মূল পর্বে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছিল বাংলাদেশ।

আসলে ২০১৪ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যই হতাশাজনক বছর ছিল। বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছেও পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ঐ বছরের শেষ দিকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েই পাল্টে দিয়েছেন দলকে। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণ, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারানো সব কিছুতেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের চিত্র।

সবশেষে এশিয়া কাপেও ভালো খেলে মাশরাফির দল জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সমীহ না করে উপায় নেই।






মন্তব্য চালু নেই