মেইন ম্যেনু

মিষ্টি পাখি কমলা দামা

কমলা দামা এদেশের মিষ্টি এক গায়ক পাখি। দেখতে দোয়েলের মতো। তবে রঙটা আলাদা। অনেক এলাকায় তাই একে কমলা দোয়েলও বলে। এর আরেক নাম কমলা বউ।

এরা বাসা বাঁধে গাছের ডালে। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় এরা মাটিতে চরে বেড়ায়। মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো ও পচা পাতার ভেতর খাবার খোঁজে। প্রধান খাবার কেঁচো। এছাড়া অঞ্জন ও গিরিগিটির ছানাও খায়।

অনেক সময় এদের ধরা শিকারে ভাগ বসাতে আসে দোয়েল। মুখের কেঁচোটাকে ছোঁ মেরে কেড়ে নিতে চায়। দামাও ছাড়বার পাত্র নয়। তখন দুজন মিলে কী টানাটানি! বেচারা কেঁচোর তখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

দামা সাধারণত একলা চলাফেরা করে। কখনও কখনও একজোড়াও একসাথে চোখে পড়ে। ছোট্ট পাখি। তাই অনেক সময় শিকারকে একা বাগে আনতে পারে না। তখন দুজন মিলে টানাটানি করে শিকারের দফা রফ করে দেয়।

চলে দোয়েলের মতো করে লাফিয়ে লাফিয়ে। মাঝে মাঝে শুকনো পাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখে কোনও শত্রু আছে কিনা। শুকনো পাতার সাথে এদের গায়ের রঙের বেশ মিল। তাই শুকনো পাতার ভেতর থেকে এদের খুঁজে বের করা কঠিন।

কমলা দামা মূলত বাগানের শুকনো পাতার ভেতর ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে ঘুরে বেড়ায়। মাঠে বাস করে। লোকালয়ের আশপাশেও দেখা যায়।

একটা পূর্ণ বয়স্ক কমলা দামার দৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার। দেহের প্রধার রং কমলা। তবে ডানা, লেজ ও লেজতল ধূসর। তার ওপর সাদা একটা রেখা টানা। ডানার নিচে পিঠ, বুক ও পেঠের রং কমলা। পেটের নিচের দিকটা সাদাটে। মাথা কালচে বাদামি। পা বাদামি ও হলুদ। ঠোঁট কালো।

এপ্রিল থেকে জুন মাসে এরা বাসা বাঁধে। নিজের বাসা নিজে রক্ষার ক্ষমতা এদের নেই। তাই ফিঙে, বুলবুলি, দোয়েল পাখির বাসার আশাপাশে বাসা বাঁধে। শিকারি পাখিরা ডিম ও ছানা খাবার লোভে অনেক সময় এসব পাখির বাসায় হানা দেয়। ফিঙে, বুলবুলি, দোয়েল লড়াকু পাখি। শিকারি পাখি দেখলেই জোটবেঁধে তাড়া করে। ফাঁকতালে দামার ডিম-ছানাও রক্ষা পায়।

গাছের দুই ডালের মাঝখানে বাটির মতো বাসা বানায়। বাসার উপকরণ কাদা, শুকনো ঘাস, শ্যাওলা, ছোট ছোট গাছের চিকন শিকড় ইত্যাদি। তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। দু সপ্তাহ পরে ডিম থেকে ছানা বের হয়। তেরো-চৌদ্দ দিন বয়সে ছানার বাসা ছেড়ে উড়াল দেয়।

 






মন্তব্য চালু নেই