মেইন ম্যেনু

মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড: প্রসিকিউশনের আরো একটি বড় অর্জন

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিকে প্রসিকিউশনের আরো একটি বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ; যদিও এ মামলা পরিচালনায় প্রসিকিউশনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমের আপিল মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও তদন্ত সংস্থার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা শুধু ব্যস্ত টিভিতে চেহারা দেখানো নিয়ে- এমন কড়া ভাষায় প্রসিকিউটরদের ভর্ৎসনাও করেছিলেন তিনি। পরে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে এ মামলার পুনঃশুনানিও দাবি করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্তব্যের জন্য তাদের শাসান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে এ দুই মন্ত্রীকে আদালত তলবও করেছেন।

তবে সবকিছুর পর মঙ্গলবার রায়ে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার পর প্রসিকিউটর তুরিনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের এতো সমালোচনার পরও সর্বোচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। এটা বড় অর্জন। এরপরও যদি আমাদের কোথাও অদক্ষতা থাকে তা শুধরে নেব।

তুরিন বলেন, প্রসিকিউশন নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই আপিল বিভাগ একাত্তরের বদরনেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি বহাল রাখায় আমরা সন্তুষ্ট।

তুরিন আফরোজ জোর দিয়ে বলেন, এরপরও কোনো অদক্ষতা ধরা পড়লে তা শুধরে নেব। তবে মীর কাসেমের এই রায় প্রসিকিউশনের বড় অর্জন।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, প্রসিকিউটর হিসেবে আমরা অত্যন্ত খুশি। আমাদের যোগ্যতা, দক্ষতা নিয়ে অনেক কথাই শুনেছি। এরপরও আমরা ভালো ফল দেখলাম।

এ রায়ের প্রতিবাদে মীর কাসেমের দল জামায়াত মঙ্গলবার সারাদেশে হরতালের ডাক দিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দক্ষতা প্রশ্নে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে প্রসিকিউশন টিমকে। তিন বছর আগে জামায়াতের শীর্ষ নেতা গোলাম আযমের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দিতে দেরির জন্য প্রসিকিউশনের সমালোচনা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। বিলম্বের জন্য প্রসিকিউশনের জমা দেয়া নথিপত্রের অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করা হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করেছিল।






মন্তব্য চালু নেই