মেইন ম্যেনু

‘মুক্তিযুদ্ধের ক্রেস্ট কেলেঙ্কারি’ নতুন করে অনুসন্ধান করবে দুদক

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আবার নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করবে দুদক। এর আগে অনুসন্ধান শুরু করার কিছুদিন পর তা বন্ধ করে দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী মাস থেকে আাবার নতুন করে এই কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কতৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ‘কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বর্ণের ক্রেস্ট জালিয়াতির অনুসন্ধান কাজ আবার নতুন করে শুরু করবো কিছু সমস্যার কারণে মাঝখানে কয়েকদিন আমাদের অনুসন্ধান বন্ধ ছিল। এ সংক্রান্ত বেশির ভাগ কাগজপত্র আমাদের হতে রয়েছে ।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননার সময় দেয়া ক্রেস্টে যে পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কথা ছিল তা দেয়া হয়নি। আর ক্রেস্টে রূপার বদলে দেয়া হয় পিতল, তামা ও দস্তা মিশ্রিত শংকর ধাতু।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সরকার স্বাধীনতার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে সাত পর্বে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ৩৩৮ বিদেশি ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনকে তিন শ্রেণীতে এ সম্মাননা অন্যান্য উপহার সামগ্রীর সঙ্গে একটি করে ক্রেস্ট দেয়া হয়েছিল। সবার হাতে একটি করে এই ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে স্বাধীনতা সম্মাননা পান ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

পরে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে সাত পর্বে দেয়া ওই সম্মাননার তৃতীয় পর্বে ৬১ ব্যক্তি ও সংগঠনের জন্য তৈরি করা ক্রেস্ট জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কাছে পরীক্ষার জন্য পাঠায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্মাননা প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা ছিল, প্রতিটি ক্রেস্টে ১ ভরি (১৬ আনা) স্বর্ণ ও ৩০ ভরি রূপা থাকবে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে করাবি এসটিআইয়ের পরীক্ষায় দেখ যায়- এক ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) জায়গায় ক্রেস্টে স্বর্ণ পাওয়া গেছে মাত্র ২ দশমিক ৩৬৩ গ্রাম বা সোয়া তিন আনা অর্থাৎ এক ভরির মধ্যে প্রায় ১২ আনাই নেই। আর রুপার বদলে দেওয়া হয়েছিল ৩০ ভরি বা ৩৫১ গ্রাম পিতল এবং তামা ও দস্তা মিশ্রিত শঙ্কর ধাতু।

কিন্তু এমিকন নামের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি ক্রেস্টের জন্য অন্যান্য খরচের সঙ্গে ২ ভরির বেশি (২৩ দশমিক ৫ গ্রাম) স্বর্ণ ও ৩০ ভরির রূপার দাম পরিশোধ করা হয়েছে। আর ৩৩৮টির মধ্যে ৬০টি ছাড়া বাকি সব ক্রেস্ট সরবরাহ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগে আরও বলা আছে, ইন্দিরা গান্ধীকে দেয়া স্বাধীনতা সম্মাননা ক্রেস্টটি ২০০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করার কথা ছিল। এটিও সরবরাহ করে এমিকন। ২৪ ক্যারেটের (বিশুদ্ধতার সূচক) স্বর্ণ দিয়ে এটি তৈরি করার কথা থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরমাণু শক্তি কমিশনে ওই ক্রেস্টটি পরীক্ষা করে দেখে- তাতে ১০ দশমিক ১১ ক্যারেট স্বর্ণ রয়েছে। আর বাকিটা খাদ।

প্রসঙ্গত, স্বর্ণের ক্রেস্ট জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত কাগজপত্র যেমন: মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন, টেন্ডারের ছায়ালিপি, টেন্ডার ও টেন্ডারসংক্রান্ত নীতিমালা, মূল্যায়ন, ক্রয় কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা এবং সুপারিশ কমিটির নামের তালিকাসহ অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এসব যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, সচিব মিজানুর রহমান, সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সচিব আব্দুল কাশেম তালুকদার, উপ সচিব এনামুল কাদের খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বাবুল মিয়াসহ উচ্চ পর্যায়ের আরো কয়েকজন আমলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে দুদক । এমনকি দুদক এই অভিযোগ ও নথিপত্রের সূত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকেও তলব করতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই