মেইন ম্যেনু

মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের আবদার অ্যামনেস্টির!

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণেদিত বলে মনে করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি এতদিন ‘মানবাধিকার রক্ষায়’মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আপত্তি তুললেও এখন আর শুধু সেই অবস্থানে নেই। এবারের বিবৃতিতে সেই প্রসঙ্গের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও দাবি করেছ, একই অপরাধ করলেও দেশের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। বুধবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর আগে থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল অ্যামনেস্টি। জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামানের ফাঁসি স্থগিত রাখার সুপারিশ করে একাধিকবার অনুরোধও করেছিল তারা। এবার জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানির আগে আবারও একই ধরনের আবদার জানাচ্ছে সংস্থাটি। এবার তাদের যুক্তি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষই নানা অপরাধ করেছে, স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার করতে হলে মুক্তিযোদ্ধারা কেন এই প্রক্রিয়ার বাইরে যাবে।

এমন বক্তব্য দিয়ে অ্যামনেস্টি সীমা ছাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকাতে অপরাধীরা আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছে, টাকা খরচ করেছে। আর সেই টাকায় অ্যামনেস্টি বিবৃতি দিচ্ছে’।

বিবৃতিতে অ্যামনেস্টির সাউথ এশিয়া রিসার্চ ডিরেক্টর ডেভিড গ্রিফিথ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অপরাধগুলো ভীতিকর। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দিবে। ন্যায্য বিচার ছাড়া মৃত্যুদণ্ড আরো বিরক্তিকর।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের আবেদনের শুনানি আগামী ২ নভেম্বর আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চে হবে। এর আগে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। রিভিউ আবেদন নাকচ হয়ে গেলে তাদের ফাঁসি কার্যকর করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

সাকা-মুজাহিদের রিভিউ শুনানির আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে রাজনীতির গন্ধ আছে বলে মনে করছেন শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমাদের আইনে গণহত্যাকারীদের বিচার হচ্ছে। এ বিচারে নাক গলানোর অধিকার কারও নাই’। তিনি বলেন, ‘৭১ এ যে গণহত্যা হয়েছে তার বিচার হচ্ছে, যাতে গণহত্যার আর পুনরাবৃত্তি না হয়। এখন তারা গণহত্যাকারীদের পক্ষ নিলে এ ধরনের অপরাধকে উস্কানি দেয়া হবে’।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা হয়নি বলে অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন গণহত্যা হয়েছিল তখন তারা কোথায় ছিল? এ ব্যাপারে মুখ দিয়ে তো টু শব্দ বের করেনি। পশ্চিমারা ইরাক আক্রমণ করে সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। সে ব্যাপারে তো কোন বিবৃতি দেয়নি’।শাহরিয়ার কবীর আরও মনে করেন, মানবতা বিরোধীদের পক্ষ নিয়ে অ্যামনেস্টি তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই