মেইন ম্যেনু

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাশিক, বাবা-মা’র সঙ্গে যোগাযোগ করতেন নিয়মিতই

ঘড় ছাড়ার পর অন্য জঙ্গিরা পরিবারের সঙ্গে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও তাজ-উল-হক রাশিকের ক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম। চাকরির কথা বলে ঘর ছাড়ার পর নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগযোগ রাখতেন। আর এ কারণেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়নি। তবে তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন এসব নিয়ে কখনোই মুখ খোলেননি।

রোববার রাশিকের পরিবার সূত্রে এমন তথ্য জানা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল চাকরিতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় রাশিক। এরপর আর ফেরেনি। তবে নিয়মিতই মোবাইল ফোনে যোগযোগ রাখতেন পরিবারের সাথে। খোঁজ নিতেন অসুস্থ বাবার।

রাশিকের পরিবারের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিকের বাবা রবিউল ইসলাম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ঢাকা সেক্টর ২ এর অধীনে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। ওখানেই ১৯৯০ সালে রাশিকের জন্ম হয়। এর চার বছর আগে জন্ম হয় রাশিকের ভাই রাজিবের। জন্মগত সূত্রেই রাশিক আমেরিকান নাগরিক। তবে বাবা রবিউল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারটি চলে আসে দেশে।

রাশিক ‘ও’ লেভেল শেষ করেছেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টার মাইন্ড থেকে। এরপর ভর্তি হোন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল ই) বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। এরপর চার মাস বাসাতেই ছিলেন। নামাজ কালাম পড়তেন, আর পরিবারের সাথে সময় কাটাতেন।

সবাই তাকে অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন ছেলে বলেই জানতো। এই ছেলেটি কীভাবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে গেল সেটা কেউ কল্পনাই করতে পারছেন না।

পরিবারের ওই সূত্রটি বলেন, ‘রাশিক যা করেছে, সেটা অবশ্যই ভুল। তবে যারা তাকে এই পথে নিয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’

এদিকে মৃতদেহ নিয়ে আসার পরিবারের সঙ্গে কেউ যোগযোগ করেনি বলে জানা গেছে।

তবে ধানমণ্ডি থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিনের বলছেন, ‘রাশিক নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। তবে এখন রাশিকের পরিবারকে ওয়াচে (নজরদারিতে) রাখা হয়েছে।’

এর আগে সরেজমিনে ধানমন্ডির ১১/এ নম্বর রোডের ৭২ নম্বর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, রাশিক তার পরিবারের সাথে ওই বাড়িটিতে প্রায় দশ বছর ধরে বাস করতেন। রাশিক সম্পর্কে প্রতিবেশীদের ধারণাও বেশ ভালো। অত্যন্ত সদালাপি ও বিনয়ী ছেলে হিসেবেই তাকে সবাই জানেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই (মঙ্গলবার) ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে রাজধানীর কল্যাণপুরে একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক ঘণ্টার অভিযানে সোয়াতের সঙ্গে গোলাগুলিতে ৯ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়। নিহতদের একজন তাজ-উল-হক রাশিক।






মন্তব্য চালু নেই