মেইন ম্যেনু

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্বিত সিরাজগঞ্জের ১৩ বীরাঙ্গনা

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্বিত সিরাজগঞ্জের ১৩ বীরাঙ্গনা। এতদিন এসব নির্যাতিত নারীরা বীরাঙ্গনা খেতাব নিয়ে সমাজে অনেক অবজ্ঞা, অবহেলার মধ্য দিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করলেও কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।

প্রসারিত করেনি সাহায্য-সহযোগীতার হাত। ফলে তাঁরা ব্িঞ্চত হয়েছেন সকল সুযোগ-সুবিধা হতে। কিন্তু, স্বাধীনতার এতদিন পর বর্তমান সরকার কর্তৃক তাঁদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় তাঁরা এখন আনন্দিত, উচ্ছসিত ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। মৃত্যুর আগে এমন একটি স্বীকৃতি তাঁদেরকে যেমন গর্বিত করেছে, তেমনি প্রশস্ত করেছে সাহায্য সহযোগীতার হাত। এখন থেকে তারা পাবেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্যাতিত নারীদের প্রথম বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। এরপর দীর্ঘ ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও তাদের কোনপ্রকার সুযোগ-সুবিধা বা পূণর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে অনেক অবজ্ঞা-অবহেলা আর দুর্যোগ-দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিলেন তারা।

সম্প্রতি সারা দেশের মোট ৪২ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক এক গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সিরাজগঞ্জের ১৩ জন বীরাঙ্গনার নাম তালিকাভূক্ত রয়েছে। জেলার মোট ২২ জন বিরাঙ্গনার মধ্যে ১৩ জনের নাম ওই তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছেন ৯ জন । এর মধ্যে ৪ জন অনেক আগেই মারা গেছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকলিন সময়ে পাকবাহীনি দ্বারা নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সিরাজগঞ্জ শহরের নতুন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামের সদ্য মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রাপ্ত বীরাঙ্গনা সূর্য্য বেগম বলেন আমরা ছিলাম বীরাঙ্গনা। এখন হয়েছি মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে আমি এবং আমার ছেলে মেয়ে ভীষন খুশি। ভাতা টাকা পেলে মৃত্যুর আগে ভালো খেয়ে পুড়ে মরতে পারি।

সিরাজগঞ্জ শহরের বিন্দুপাড়া গ্রামের সদ্য মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রাপ্ত অসুস্থ্য ও মৃত্যু শয্যায় শায়িত আরো একজন বীরাঙ্গনা বৃদ্ধা কমেলা বেওয়া বলেন আমাদের নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে এতেই আমরা খুশি। এখন আমরা স্বাধীন দেশের নাররিক। যারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করি। তাদের জন্য রইলো বুকভরা ভালো বাসা।

এ দিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন, তাঁরা নিজেরা স্বীকৃতি না পেলেও অন্যদের স্বীকৃতি পাওয়াতে তাঁরা আনন্দিত। তবে তাঁরা অনতিবিলম্বে তাদের নাম ওই তালিকাভুক্তকরণ এবং তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই