মেইন ম্যেনু

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল দ্বিগুণের বেশি

আরেক দফা বাড়ানো হলো খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ফলে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বাজেট বরাদ্দ থেকে সমন্বয় হবে। পরবর্তী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সিলিংয়ের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখতে হবে।

সূত্র জানায়, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্যমান চারটি শ্রেণিকে তিন শ্রেণি করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গ, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, বীরশ্রেষ্ঠর পরিবার এবং তারামন বিবি বীর প্রতীকের মাসিক সম্মানি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারবর্গের মাসিক সম্মানি ভাতা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এতে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর পরিবার মাসে ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এতদিন তারা ১২ হাজার টাকা করে পেতেন। এক্ষেত্রে ভাতা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫০ শতাংশ। এ ছাড়া ৬৮ জন বীর উত্তমের ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা, ১৭৫ জন বীর বিক্রমের ভাতা ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, ৪২৬ জন বীর প্রতীকের ভাতা ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ‘এ’ শ্রেণিতে ২০ জন, ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণিকে একীভূত করে ‘বি’ শ্রেণিতে ২ হাজার ৪৭৫ জন (‘বি’ শ্রেণির ১৪৬ জন ও ‘সি’ শ্রেণিতে ২ হাজার ৩২৯ জন), ‘সি’ শ্রেণিতে ২ হাজার ৫৩২ জন, ২ হাজার ৫০০ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ৩০৩, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ পরিবার ৭ ও তারামন বিবি বীর প্রতীকসহ মোট ৭ হাজার ৮৩৮ জনের ভাতা বাড়ানো হয়েছে।

‘এ’ শ্রেণির ২০ জনের মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, সাহায্যকারী ভাতা ১১ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘বি’ শ্রেণির ২ হাজার ৪৭৫ জনের মূল ভাতা ২৮ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। ‘সি’ শ্রেণির ২ হাজার ৫৩২ জনের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ মোট ১৮ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ২ হাজার ৫০০ জন এবং মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ৩০০ পরিবার মূল বেতন ১৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ মোট ২২ হাজার টাকা করে পাবেন। সাত বীরশ্রেষ্ঠর পরিবার মূল বেতন ২৮ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ ৩৫ হাজার টাকা এবং তারামন বিবি বীর প্রতীককে মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকাসহ মোট ২৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হবে।

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান ভাতার হার ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর আছে। ভাতা বাড়ানোর ফলে বছরে অতিরিক্ত ১২১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এ খাতে সরকারের বার্ষিক মোট ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ৩ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের কর্তব্য। আর তাদের মঙ্গলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের যোগ্য মর্যাদা আমরা দিতে পারছি না। তবু বিগত সময়ের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, এ ভাতা তাদের কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।






মন্তব্য চালু নেই